বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন
জানা গেছে, জেল খাটার পরও রোহিঙ্গা হাফেজ তাঁর মেয়ে জান্নাত আরার নামেও একইভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি নম্বর-৯১৭৯০৯৯৭৪৩) বের করেন।
আরেক রোহিঙ্গা সৈয়দ আলম কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাত্তারের ঘোনা মহল্লার বাসিন্দা। কক্সবাজার পৌরসভার পাহাড়তলি এলাকায় বর্মাইয়া পাড়ায় আছে দুই লাখ রোহিঙ্গার বসতি। পুলিশ জানায়, সৈয়দ আলম রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদ, ভোটার আইডিসহ পাসপোর্ট করে দেওয়ার চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পুলিশ এরই মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধেও জাল-জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর বাসিন্দারা দলে দলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দালাল ধরে ইউনিয়ন পরিষদ অফিস থেকে জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করছে, বিশেষ করে নাম, পিতা বা স্বামীর নামের মিল খুঁজেই তারা এসব সংগ্রহ করে।
এদিকে সাতক্ষীরার কয়ারপাড়া থেকে জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করে গত ২০ জানুয়ারি কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টের আবেদন নিয়ে হাজির হন দুই রোহিঙ্গা নারী। উখিয়ার কুতুপালংয়ের ৪ নম্বর শিবিরের ব্লক ‘সি’র বাসিন্দা মোহাম্মদ জুনায়েদের মেয়ে রাবেয়া খাতুন রাফিয়া (১৬) ও আইউব খানের মেয়ে মারজান বিবি প্রকাশ মায়রাম বিবি (২২)-এর আবেদন যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, জন্ম নিবন্ধনের দুটি কপিই হচ্ছে সাতক্ষীরা এলাকার। রোহিঙ্গা আবেদনকারী রাবেয়া ও মারজানকে আটকের পর যথারীতি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোবারক হোসেন গত বৃহস্পতিবার জানান, আবেদনকারীদের সন্দেহ হলে তাদের কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়েই এমন জালিয়াতি ধরা পড়ে। দালালরা চালাকি করে এনআইডির নাম ও নম্বর মিল থাকলে আবেদনকারীর ছবি পরিবর্তন করে ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। তিনি বলেন, আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রথা চালু ছিল, তাই পাসপোর্ট অফিস কর্তৃপক্ষের দায় ছিল কম; কিন্তু এখন সেটা না থাকায় পাসপোর্টের আবেদনকারীকে ভালো মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়।
রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজিজা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে বসতি গড়েছিলেন দুই বছর আগে। সেখান থেকে কক্সবাজার শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমাপাড়ার পানিরকুয়ার আরেক রোহিঙ্গা সাইফুল খলিফার কাছ থেকে এক খণ্ড জমি কিনে সেখানে আবার বসতি গড়েন। আজিজা এখন কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা। তাঁর মেয়ে রেসমিকা বেগম কক্সবাজার বালিকা মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী।
বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি নিজে এ ব্যাপারে মাদরাসার অধ্যক্ষ মওলানা শফিউল হকের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানাই। একজন রোহিঙ্গাকে কিভাবে মাদরাসায় ভর্তি করা হলো তা জানার চেষ্টা করি। ’ মাহবুবুর জানান, মাদরাসার অধ্যক্ষ রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী রেসমিকার ফাইল বের করে দেখতে পান যে তার ফাইলে জাতীয়তা সনদসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্র নেই।
কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বলেন, এ রকম প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্র ছাড়া এভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শত শত রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। এসব শিক্ষার্থী এসএসসি, দাখিলসহ আরো উচ্চতর ডিগ্রির সনদপ্রাপ্তির পর সংগত কারণেই সরকারি চাকরিতেও অবাধে ঢুকে পড়ার সুযোগ পেয়ে যাবে।
মাহবুবুর রহমান জানান, রোহিঙ্গাদের নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের তেমন কোনো তদারকি নেই। রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা ভুয়া তথ্য আর জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে এ দেশের নাগরিকত্ব নিচ্ছে। গত ৮ মে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে তিনি সংগঠনের পক্ষে ৯ জন রোহিঙ্গার ভুয়া এনআইডি সনদের যাবতীয় তথ্যসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এসব রোহিঙ্গার কারোর প্রকৃত মা-বাবার নাম সঠিকভাবে এনআইডিতে নেই। তবু তারা এনআইডি সনদ পেয়ে গেছে।