বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আওয়ামী লীগ: রিজভী ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যাসিবাদে প্রবেশ করেছিল:জামায়াত আমির ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু চাঁদপুরে ৩৩ হাজার মিটার কারেন্ট জালসহ আটক ৪০ জেলে রাজবাড়ীতে ব্যবসায়ী নেতাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের নির্বাচনে রেকর্ড আসনের পথে আরব দল, হতে পারে ‘কিংমেকার’ শ্রীপুরে নেশার টাকা না পেয়ে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ বান্দরবানে বজ্রপাতে শিশুসহ নিহত ২ লগি-বৈঠা হামলার বিচার চেয়ে চট্টগ্রামে জামায়াতের সমাবেশ বুধবার

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যাসিবাদে প্রবেশ করেছিল:জামায়াত আমির

বাংলাদেশ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যাসিবাদে প্রবেশ করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর আইডিইবি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে জামায়াতের উদ্যোগে মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তাণ্ডবে শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি ফ্যাসিস্টদের একটি ক্লাব। তারা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গেছে, তখনই বেপরোয়া হত্যা ও সন্ত্রাস চালিয়ে গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে। আওয়ামী লীগ ৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণ করে ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এ জাতির ওপর সমানতালে সন্ত্রাস, লুটপাট, তাণ্ডব, চাঁদাবাজি চালিয়েছে ও মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট করার ঘটনা ঘটেছে। এই অপকর্মগুলো সেসময় তারা করেছে। স্বাধীন দেশে ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে তারা খুন করেছে। ৩৫-৩৭ হাজার মানুষকে হত্যা করা হলেও তাদের কাউকে বিচারের মুখোমুখি কিংবা আদালতে তোলা হয়নি। রক্ষী বাহিনী দিয়ে তাদের নির্মমভাবে খুন করা হয়েছিল। তারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে বাকশাল ও নিজেদের রক্ষায় রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিল।’

শেখ হাসিনা জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসেন উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘কিন্তু রক্তের নেশা তার কাছ থেকে যায়নি। তিনি বলেছিলেন, আমার দলের একটি লাশ পড়লে ১০টি লাশ ফেলতে হবে। শাসক হয়ে জনগণকে খুন করার সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার ধৃষ্টতা! ফ্যাসিস্টের যে ঐতিহ্য তিনি ধারণ করেন, সে কারণে তিনি এটি করেছিলেন।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘২০০১ সালে জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসে এবং ২০০৬ সালের শেষ দিন ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ একই ঘটনা ঘটিয়েছে। লগি-বৈঠা হাতে নিয়ে রাজধানীতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা। মানুষ পিটিয়ে হত্যা করার জন্য রাজধানীতে লগি-বৈঠা আনতে বলা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডে বামপন্থি দোসররা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল। আমাদের সহকর্মীকে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছে বাপ্পাদিত্য বসু। এমনকি তারা আমাদের ভাইদের লাশগুলো চুরি করতে চেয়েছিল। প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হয়েছিল। কী নিদারুণ বিভীষিকাময় মুহূর্ত ছিল! আমাদের আফসোস! তখনো চারদলীয় সরকার ছিল। তারপরও মাগরিবের আগ পর্যন্ত তারা এ তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেল কীভাবে? এখানে কার দুর্বলতা ছিল? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে নির্মম হত্যাকাণ্ড হলো, তারা কাউকে হাত ধরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলো না কেন? তাহলে এখানে কোনো বৃহৎ ষড়যন্ত্র ও নোংরা খেলা ছিল? এটা জাতির বিরাট প্রশ্ন। এসব হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মামলা হলো। আওয়ামী লীগ পেছনের দরজা দিয়ে বোঝাপড়া করে এক-এগারোর সরকারের হাত ধরে ক্ষমতায় এসে মামলার নথিপত্রসহ সব আলামত গায়েব করে ফেলে। মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।’

৪০ বছর পর জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হত্যা করার ফল আওয়ামী লীগকে ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যথাযথ অপরাধী, তারা এখান থেকে পার পাবে না, ইনশাআল্লাহ। আমরা এ বিচারের শেষ দেখে ছাড়বো।’

সেদিন বাংলাদেশ পথ হারিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যাসিবাদে প্রবেশ করেছিল, যা এখন অব্যাহত আছে। আমরা সব ফ্যাসিবাদকে বলে দিই, আওয়ামী লীগ কখনো স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে পারেনি। সবসময় লাঞ্ছিত হয়ে, ধিকৃত হয়ে বিদায় নিয়েছে। সেই রাস্তা এখনো যদি কেউ অবলম্বন করতে চান, তাদের পরিণতি নিশ্চয়ই ভিন্ন হবে না, একই পরিণতি হবে। আমরা এসব নিকৃষ্ট খুনির ন্যায়বিচার চাই, আমরা চাপিয়ে দেওয়া কোনো বিচার চাই না। অন্যায়ভাবে ফাঁসিও চাই না,’ যোগ করেন শফিকুর রহমান।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদকে কেউ কেউ আসকারা দিচ্ছেন। আমরা তাদের কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না। রাজনীতি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার, বৈষম্য দূর করার জন্য। আর এসব বৈশিষ্ট্য আওয়ামী লীগের মধ্যে নেই। এজন্য বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা ভালো মানুষ, তারা তাদের পছন্দের আপন ঠিকানা খুঁজে নেবে। কিন্তু ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে ফিরে আসবে—এই কল্পনা কেউ করবেন না, স্বপ্ন দেখবেন না, জুজুর ভয় আমাদের দেখাবেন না।’

মানুষ ফ্যাসিবাদের পরিবর্তন চায় জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘পরিবর্তনের পক্ষে গণভোটে রায় দিয়েছিল। সংবিধান ঘষামাজার জন্য রায় দেয়নি। গণভোটে রায় দিয়েছে রাজনীতির আমূল পরিবর্তনের জন্য। যে রাজনীতি হবে দেশ ও জনগণের কল্যাণের। কাউকে ফ্যাসিবাদী হওয়ার কোনো সুযোগ দেবে না। আফসোস, সরকার সেটি ভুলে গেছে। ভুলে গিয়ে লাভ হবে না। ফিরে আসুন। সংবিধান সংস্কারে গণপরিষদ গঠন করে সংবিধান সংস্কার করুন। যদি না করেন, পরিষ্কার বার্তা—অন্যায়ের কাছে মাথানত করিনি, এখনো করবো না।’

জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025