রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
‘এই দেশ ছেড়ে ভাগেন যাতে আপনার সন্তানকে লাশ হয়ে ফিরতে না হয়’: ইরফান সাজ্জাদ সরকারের পদত্যাগ চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিগত ১৭ বছরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা হয়েছে: রিজভী ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আমাদের লং মার্চ গণতান্ত্রিক: মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি না মানলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে: জামায়াত আমির অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ডাকসু ভিপি সাদিকের অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সন্দেহজনক আরও এক তরুণ আটক পাহাড়ের নির্জন স্থানে যেভাবে সন্ধান মেলে অপ্রতিমের পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার নেত্রকোনায় ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ২

পাহাড়ের নির্জন স্থানে যেভাবে সন্ধান মেলে অপ্রতিমের

লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থানে বাঁশ কাটতে গিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন স্থানে বাঁশ কাটতে গিয়ে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রথমে ওই শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন।

এর পরই বিষয়টি জানাজানি হলে দুপুরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছান। পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অপ্রতীম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত সে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী পেশায় একজন দিনমজুর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাঁশ কাটতে জঙ্গলে যাচ্ছিলাম। এক পর্যায়ে আমার সঙ্গে থাকা ভাতিজা বলে উঠলো-কাকা, একটা বাচ্চা পড়ে আছে। পরে দেখি, মাথার দিকে রক্ত। আমরা ভয় পাইয়া গেছি। পরে বাঁশ না কেটে ফিরে যাই। ওই সময় আমার হাতে ঘড়ি ছিল না। তবে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা হবে।’

সড়কের ওঠার পর মামুন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হয়। ওই সময় তাকে বিষয়টি বলতেই তিনি বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ছেলে গতকাল থেকে নিখোঁজ। এরপর মামুন ভাইকে নিয়ে আবার ঘটনাস্থলে যাই। তিনি তাকে দেখেই শিক্ষকের ছেলে বলে শনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি এখনো পাওয়া যায়নি।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে সে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল বলে পরিবার জানায়। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাথমিক ধারণা, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সিটি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025