মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম :

খালেদা জিয়া রাজনীতিতে উন্নত নৈতিকতার প্রতীক: রিজভী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজনীতিতে উন্নত নৈতিকতার প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার দেখানো সংগ্রাম, আন্দোলন, আদর্শ ও অঙ্গীকারের পথ অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি যে ‘অপরাজেয় পতাকা’ বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, তা বহন করে যেতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিল এজিবি কলোনিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন এবং আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে এ দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না— আমাদের শোকে, আমাদের সংকটে, আমাদের বেদনায় যে মানুষটি হিমালয় পর্বতের মতো অখণ্ড ও ভারী প্রেরণার উৎসস্থল ছিলেন, তিনি দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এ দেশের গণতন্ত্রের মূর্তিমান প্রতীক, আদর্শের প্রতীক, চেতনার প্রতীক এবং রাজনীতিতে উন্নত নৈতিকতার প্রতীক। তাকে যত বেশি স্মরণ করা হবে এবং তার জীবনাচরণ ও জীবনলক্ষ্য যত বেশি চর্চা করা হবে, ততই নিজেদের মধ্যে শক্তি ও প্রেরণা পাওয়া যাবে।

খালেদা জিয়ার ওপর আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, শত নিপীড়ন-নির্যাতন ও অত্যাচারের মধ্যেও তিনি তার আদর্শ ও অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হননি। তাকে রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র সরানো সম্ভব হয়নি।

খালেদা জিয়াকে যে কারাগারে রাখা হয়েছিল, সেটির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, পরিত্যক্ত ওই কারাগারে তাকে বন্দি রেখে ইচ্ছাকৃত নিপীড়ন করা হয়েছে। সেখানে তাকে উন্নত চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির এ নেতা অভিযোগ করে বলেন, খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখার উদ্দেশ্য ছিল তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা এবং যাতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিজের একটি রাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।

দেশের ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২৮ লাখ কোটি টাকা ১৭ বছরে পাচার করেছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন ধ্বংস করা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন সারা দেশের জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ তৈরি করেছিল, তারই পরিণতি আমরা দেখেছি জুলাইয়ের সেই মহাবিপ্লব, সেই মহাউত্থানের মধ্য দিয়ে। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছে।

আগামী দিনের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, তার সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান সেই পতাকা ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দরিদ্র পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025