সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে হান্নান মাসউদের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল হান্নান মাসউদের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ।

হান্নান মাসউদ বলেন, বাজেটের ওপর জনগণের কোনো আস্থা নেই। তার প্রমাণ একদিন পরেই খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজকে সংসদে নেই। উনি (প্রধানমন্ত্রী) যখন বিভিন্ন ভাষণে গিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে বলেন, বিরোধী দল বাজেট নিয়ে মিছিল করছে। এর কারণ আমরা কেন মদ সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করেছি। প্রধানমন্ত্রী যখন অসত্য তথ্য দিয়ে কথা বলেন তখন আমরা খুবই আশাহত হই।

এ নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের পাল্টাপাল্টি যুক্তিতে তৈরি হয় হট্টগোল। রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১১তম দিনে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদে যখন আমরা ঋণ নিয়ে কথা বলতে যাই, ইসলামী ব্যাংকের দখল নিয়ে কথা বলতে যাই, তখন প্রধানমন্ত্রী দাঁড়িয়ে যখন বলেন, আপনারা সবাই জমিদার যারা ঋণ নেন নাই। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মূলত ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করেন। আমরা এই ধরনের সংসদ আর চাই না।

এর পরেই সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারি দল ও বিরোধী দল হান্নান মাসউদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে কথা বলেন। সংসদে কথা বলার জন্য হান্নান মাসউদ পুনরায় ফ্লোর চান। একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এটি শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।’

আলোচনার এক পর্যায়ে অনির্ধারিত আলোচনায় সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক বলেন, ‘আমরা সংসদকে কার্যকর করতে উভয় পক্ষ একটি সম্মতিতে এসেছি। সংসদে এমন কোনো অসত্য বাক্য উত্থাপন করা উচিত নয়, যাতে কারও মানহানি হয়। নতুন প্রজন্মের একজন সংসদ সদস্য সংসদ নেতাকে নিয়ে কিছু বক্তব্য রেখেছেন যা অত্যন্ত ক্ষোভের। আমাদের নেতা উড়ে এসে জুড়ে বসেনি। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। ১৬ বছর ধরে রাজপথে সংগ্রাম করে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে তিনি সরকার গঠন করেছেন। সংসদ নেতাকে নিয়ে দেওয়া অসত্য বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাচ্ছি।’

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিরোধী দলের চিফ হুইপ যে কথাটা বললেন, আমার মনে হয় এটা সত্য নয়। সঠিক নয়। কারণ আমাদের সংসদ সদস্য যে বক্তব্য দিয়েছেন সেই বক্তব্যের মধ্যে তিনি সুনির্দিষ্টভাবেই বলেছেন আমাদের সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আপনারা ফ্যাসিস্টের কথা বলেন, কিন্তু ফ্যাসিস্ট আচরণ তো আপনাদের কাছ থেকেই আসছে। যে অংশটুকু অসত্য, তা দয়া করে এক্সপাঞ্জ করবেন।

এ সময় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বারবার দাঁড়িয়ে কথা বলতে চাইলে স্পিকার তাকে সতর্ক করে বলেন, ‘আপনার সময় শেষ। এভাবে যখন খুশি তখন দাঁড়ানো সংসদের রীতি নয়। প্লিজ টেক ইয়োর সিট। এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।’

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হান্নান মাসউদ সংসদ নেতার ব্যাপারে কিছু কথা বলেছেন। আমি অনুরোধ করবো, বাইরের বিষয় টেনে এনে এখানে এক্সপাঞ্জ বা বক্তব্য দেওয়া যেন অ্যালাউ না করা হয়। সংসদের ভেতরে সংসদীয় নর্মস থাকা উচিত। সত্য-অসত্যের এই ঝগড়ায় গেলে হয়তো অনেক কিছু লজ্জাজনক হয়ে যাবে। তাই পুরো বিষয়টি ইগনোর করাই আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে।’

সবশেষে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমরা সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেব।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025