রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন

‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে উত্তাল দিল্লি

ভারতের রাজধানী দিল্লির জন্তর মন্তরে শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মন্ত্রীর অপসারণের দাবি জানান। সম্প্রতি অনলাইনে ঝড়তোলা তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে এই বিক্ষোভ হচ্ছে। সেখানে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে যোগ দিয়েছেন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি লিখেছে, আমরাই শিক্ষামন্ত্রীকে নির্বাচিত করে সেখানে পাঠিয়েছি, তিনি আমাদের করের টাকায় বেতন পান। অথচ তার আমলে কোটি কোটি তরুণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। ককরোচরা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান বিদায় নিচ্ছেন।

শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। পাঁচজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

সকাল ১১টার দিকে জন্তর মন্তরে পৌঁছালে সমর্থকেরা তাকে ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এবং ‘জয় ভীম’ স্লোগানে স্বাগত জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে দীপকে বলেন, দেশের তরুণরা আর ভয় পাবে না, তারা লড়াই করবে।

বিক্ষোভে অংশ নিতে হাজারো মানুষ জন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছেন বলে দাবি করেছে আয়োজকেরা। তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং শিক্ষা খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।

এদিকে, সিজেপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করলে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। আটক হওয়ার আগে তারা ‘দিল্লি পুলিশ লাঠি চালাও, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি’ স্লোগান দেন।

দিল্লি পুলিশ আগেই এই কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছিল। দীপকে বিক্ষোভকারীদের বই ও জাতীয় পতাকা সঙ্গে নিয়ে সরাসরি জন্তর মন্তরে আসার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনের বাইরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার দিল্লি হাই কোর্ট এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে জননিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দেয়।

তেলাপোকা জনতা পার্টি একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়। এক শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সুরিয়া কান্ত বেকার তরুণদের একটি অংশকে ‘ককরোচ’ (তেলাপোক) -এর সঙ্গে তুলনা করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা হয়।

এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াচুংক এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজসহ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025