শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা, ৬৫ জনের মৃত্যু

আফ্রিকান সেন্টার ফর ডিজেজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন ডেমোক্রটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে নতুন ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কথা জানিয়েছে।

আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সংক্রমণের ঘটনা এবং ৬৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই সোনার খানি এলাকার বাসিন্দা।

শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঙ্গো সরকার, প্রতিবেশী উগান্ডা ও দাক্ষিণ সুদান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে সীমান্ত নজরদারি ও প্রতিরোধ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হবে।

ইবোলা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে বর্তমান কঙ্গোতে। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। দেশটিতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব।

রোগটি শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শ ও ক্ষতস্থানের মাধ্যমে ছড়ায়। এতে মারাত্মক রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ইবোলার প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও গলা ব্যথা। পরে বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে র‍্যাশ এবং রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবোলার গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং এখনো এর নিশ্চিত কোনো চিকিৎসা নেই।

রাজধানী কিনশাশায় করা প্রাথমিক পরীক্ষায় বিশ্লেষণ করা ২০টি নমুনার মধ্যে ১৩টিতে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে ভাইরাসটির ধরন নির্ধারণে আরও পরীক্ষা চলছে।

আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, মৃত ৬৫ জনের মধ্যে চারজনের সংক্রমণ পরীক্ষাগারে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এছাড়া ইতুরি প্রদেশের রাজধানী নুনিয়াতে আরও কিছু সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের নমুনা পরীক্ষার ফল এখনো আসেনি।

আফ্রিকা সিডিসির নির্বাহী পরিচালকবলেছেন, খনিশ্রমিকদের চলাচল, শহরাঞ্চলে সংক্রমণ এবং সীমান্তবর্তী মানুষের যাতায়াতের কারণে রোগটি আরও ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি বলেন, আক্রান্ত এলাকা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে মানুষের ব্যাপক চলাচল হচ্ছে। তাই আঞ্চলিক সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।

সূত্র: বিবিসি

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025