শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের পক্ষে দেশের মানুষ রায় দিয়েছে। সরকার সেই গণভোটের রায়কে অপমান-অগ্রাহ্য করেছে। গণভোটের রায়কে বাদ দেওয়া বা পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে দেওয়া হবে না। আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদ ও সংসদের বাহিরে লড়াই চালিয়ে যাব। গণভোটের রায় একদিন বাস্তবায়ন হবে।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সুধী সমাবেশে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটকে অগ্রাহ্য করার পাশাপাশি দেশের গভর্নর পরিবর্তন করে বিতর্কিত মানুষকে আমানতের জায়গায় বসিয়েছে। ৪২ জেলায় প্রশাসক বসিয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক উপায়ে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছিলো, তখন কেন দলীয় লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসাতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন করে জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের আবার বড় বড় জায়গায় বসিয়ে রাখা হয়েছে। এটি জনগণের সাথে এক ধরনের তামাশা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান চর্চার জায়গা হলেনও সেখানে দলীয় অনুগত লোকজনকে ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এসবের জবাব নেই তাদের কাছে। তারা মনে করছেন এই পরিকল্পনা ফাইনাল। অতীতের সরকার সাড়ে ১৫ বছর অনেক কিছু সাজিয়েছিল, কিন্তু দুদিনের মাথায় সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে জামায়াতের আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমূখী দল। আমরা সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। তবে আপনারা দেখেছেন দুটি উপ-নির্বাচনের কি অবস্থা। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কিত। জাতীয় নির্বাচনের মতো জনগণ যেন নিজের অধিকারের পক্ষে সজাগ থাকে সেই আহ্বান করছি। কারণ সকল রোগের ঔষধ হলো জনগণের ম্যান্ডেট। জনগণ জাগলে কেউ কিছু করতে পারবে না।
আমেরিকার সাথে চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, এর আগেও এ বিষয়ে আমি বক্তব্য দিয়েছিলাম। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আমাদের সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি, কোনো আলোচনাও হয়নি। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এ বিষয়ে আমাদের সাথে কোনো কথা হয়নি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, পদ্মা ব্যাজের নির্মাণের বিষয়ে আমি সরকারকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু তা তিস্তার বিনিময়ে নয়। তিস্তার জায়গায় অবশ্যই তার পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর বিনিময়ে আমরা কিছু চাই না।
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের উপর নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের উপর যে নিযার্তন হচ্ছে তার নিন্দা জানাই। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ে আঘাত করার অধিকার দুনিয়া কিংবা কোনো সংবিধান দেয় নাই। যারা মানবতার উপর জুলুম করবে, আমরা তাদের বিপক্ষে অবস্থান করবো।
পরে তিনি সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখেন। রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য, রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবার রহমান বেলালসহ অন্যরা।
শেষে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানের নাম ঘোষণা করা হয়। এর আগে সকালে জামায়াতের আমির রংপুর নগরীর মডেল কলেজ মিলনায়তনে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের আয়োজিত উপজেলা ও থানা আমিরদের নিয়ে বিভাগীয় সম্মেলনে যোগ দেন।