সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশ সরকারও কাঁটাতার ভয় পায় না বলে জানান তিনি।
সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন আর ডর (ভয়) দেখানোর মতো জায়গা নেই। দেখুন, যদি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চান, বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না। বাংলাদেশ সরকারও কাঁটা তার ভয় পায় না। যেখানে আমাদের কথা বলার দরকার, আমরা কথা বলবো।
তিনি বলেন, এখানে (বর্ডারে) তো অনেকগুলো মানুষ হত্যা করা হয়। যেগুলো আগে দেখছি আমরা হাসিনার সময়। ওই নমুনায় তো আর বর্ডার ইনশাআল্লাহ কোনো দিন আসবে না। আর ওই নমুনায় যদি কেউ বর্ডার করতেও চায় এই বাংলাদেশ ওই গোলামির দেশ নয় যে বসে দেখবে। বাংলাদেশের পরিকল্পনা আছে কী করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আশা করি, ওই পথে যাবে না। প্রতিবেশী দেশগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। আমরা আমাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে ডায়ালগ চাই। চ্যালেঞ্জ থাকবে। সন্ত্রাসী হাসিনা দেড় হাজার মানুষকে মেরে ওখানে পালিয়ে গেছে। এখন আছে ভারতের সার্বভৌম রাষ্ট্রে। ভারতে থেকে তাকে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য যেন স্পেস না দেওয়া হয়। আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, ভারতের সরকারের কাছ থেকে, তারা তাকে ওই স্পেসটা দেবে না।
হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই। আমরা বলছি, দুই দেশের নেতৃত্বের মানসিকতা হতে হবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। অবশ্যই অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। যতক্ষণ অবধি আলোচনার দুয়ার খোলা আছে সমস্যার সমাধানের সুযোগ আছে। কিছু ইস্যু দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে, আবার কিছু ইস্যু সমাধানে সময় লাগবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচনে জেতার জন্য বহু ধরনের প্রচারণামূলক কথা বলা হয়। কিন্তু যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তাদের ব্যাপারটা একেবারে আলাদা। দেখি, আমরা একটু সময় দেই। প্রচারণামূলক কথা আর সরকারের কথা এক নয়। আমাদের সম্পর্কটা প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেই থাকবে। এখানে আমরা তাদের ভেতরের রাজনীতি দেখতে পাচ্ছি।
তিস্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপি সরকার আসছে। বিজেপি সরকার যখন আসছে…ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকারে তৃনমূল ক্ষমতায় থাকায় তাদের একটা মতামত নেওয়া লাগতো, যেটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে যেতো। এখন তো আর তৃণমূল কংগ্রেস নেই। এখন কেন্দ্র সরকার একই দলের। তাদের প্রদেশের সরকারও একই পার্টির। আমরা আশা করি, এদিক থেকে তো ইতিবাচক এবং কম চ্যালেঞ্জিং হওয়ার কথা। সুতরাং, দেখুন, সময় কথা বলবে।