মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন
বর্তমান সরকারের ব্যাংক ঋণ গ্রহণের লাগামহীন গতি এবং রাজস্ব আদায়ের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
তিনি বলেছেন, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫২ দিনের মাথায় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সম্পূরক প্রশ্নে এসব কথা জানান। সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে সংসদ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপনের সময় রুমিন ফারহানা বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারিত ছিল, এপ্রিলের শুরুতেই তা লক্ষ্যমাত্রার ১০৮ শতাংশ অর্থাৎ ১ লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে থাকলেও সরকার ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে করের আওতা বাড়ানো বা রাজস্ব বাড়াতে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তা অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি।
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঋণের এই বিশাল অঙ্ক মূলত বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দায়ের ধারাবাহিকতা বা ক্যারিওভার। সরকার মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এই ঋণের সংখ্যা বর্তমান সরকারের কর্মফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
এসময় রুমিন ফারহানাকে আশ্বস্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল অর্থনৈতিক নীতিই হলো স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা এবং এর প্রতিফলন আগামী বাজেট থেকেই দেখা যাবে। বর্তমানে দেশের ব্যবসায়ীরা অস্তিত্ব সংকটে থাকায় এবং শিল্পকারখানাগুলো নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হওয়ায় ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।
আমির খসরু বলেন, বিগত সরকারগুলোর আমলে এই অনুপাত নিচে নেমে এলেও বর্তমান সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অর্থনীতিকে পুনরায় শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।