মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন

ডুবে যাওয়া বাস থেকে ৯ শিশুসহ ২৩ মরদেহ উদ্ধার, হস্তান্তর ২১

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরি-ঘাটের পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ শনাক্ত শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার ( ২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই শিশু বলে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন, রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর লালমিয়া সড়কের মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), সজ্জনকান্দার মৃত ডা. আবদুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭), কাজী মুকুলের মেয়ে কাজী সাইফ (৩০), কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), দাদশী রামচন্দ্রপুরের সোবাহান মণ্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান (৮), মিজানপুর বড়চর বেনি নগরের মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোস্ন্যা (৩৫), গোয়ালন্দ ছোট ভাকলার চর বারকিপাড়ার রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২), মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), কালুখালী বোয়ালিয়ার ভবানীপুরের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে ফাইজ শাহানূর (১১), রতনদিয়া মহেন্দ্রপুর বেলগাছির আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা জেসমিন (৩০), ছেলে আব্দুর রহমান (৬)।

এছাড়া বালিয়াকান্দি পশ্চিম খালখোলার আরব খানের ছেলে (গাড়ি চালক) আরমান খান (৩১), কুষ্টিয়া মজমপুরের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খাগড়বাড়ীয়ার হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), খোকসা সমাজপুর ধুশুন্দুর দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩), সমসপুরের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহ শৈলকূপা থানার কাচেরকোল খন্দকবাড়িয়ার নুরুজ্জামানের মেয়ে আরমান (৭ মাস), গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া আমতলী নোয়াধার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুর পার্বতীপুর থানার পলাশবাড়ী মথুয়ারাই মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকা আশুলিয়ার বাগধুনিয়া পালপাড়ার মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০)।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে বাসটি। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের পন্টুন দিয়ে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা ১০-১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও বাকিরা নিখোঁজ থাকেন। বাসে থাকা যাত্রীরা ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনায় পড়া বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।

খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজে অংশ নেয় উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’। পাশাপাশি নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাতভর উদ্ধার তৎপরতা চালায়। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান ও নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025