শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

ইবি শিক্ষিকাকে খুন, দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় থিওলোজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শিক্ষার্থীর। পরে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘আমার ম্যাম হত্যা কেনো? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার ম্যামের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’, ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘ইবি কেনো রক্তাক্ত? প্রশাসন বিচার চাই’, ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা নিম্নোক্ত দাবিগুলো পেশ করেন— অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিত করা, হত্যার নেপথ্যের কেউ থাকলে জবাবদিহিতায় নিয়ে এসে তার বিচার নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাস-হল এবং ডিপার্টমেন্টে সিসি ক্যামেরা নিশ্চিত করা এবং তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এবং কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষণ করা, স্মার্ট আইডি ছাড়া কেউ ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে না (ভ্যানওয়ালা দোকানদার সবাইকে আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা), ডেইলি বেসিস কর্মচারীদের নেম প্লেট সহ আলাদা পোশাকের ব্যবস্থা করা এবং তাদের বেতন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেওয়ার ব্যবস্থা করা, বিভাগীয় আয় ব্যয়ের হিসাব পরিষ্কার রাখা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।

সমাবেশে বিভাগটির ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া সাবরিনা বলেন, আমরা ম্যামের হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে এখানে এসেছি, ম্যাম আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন, একজন কর্মচারী কতটা উগ্র হলে রুমে ঢুকে তাকে হত্যা করতে পারে! এই ঘটনার সাক্ষী অনেকেই আছেন, তাই আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।

বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, আমি একজন মানুষ হিসেবে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। যদি আমি নিজেও এর সাথে জড়িত থাকি তাহলে আমি নিজেরও শাস্তি দাবি করি।

উল্লেখ্য, গত বুধবার আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে আসমা সাদিয়া রুনার নিথর দেহ পাওয়া যায়। প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই সময় ভিতর থেকে আটকানো সভাপতির কক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে ‘আত্মহত্যার’ চেষ্টারত অবস্থায় দেখতে পান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তিনি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। বদলির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মচারী ফজলুর রহমান আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025