সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বাউফলে বিএনপি-জামায়াতের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৪০ প্রশাসন একদিকে হেলে পড়েছে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই: ইসিকে জামায়াত ধানের শীষের সুনামি আসছে: আমীর খসরু মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহর গঠনে সাতটি ভিত্তি তুলে ধরলো জামায়াত বিএনপির প্রতিশ্রুতি শুনলে ‌শয়তানও মিটিমিটি হাসে: ছাত্রশিবির সভাপতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকবে বিএনপি: তারেক রহমান ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রচারণাকালে অসুস্থ হয়ে পড়লেন আমির হামজা ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন: হাসনাত আব্দুল্লাহ ৫ আগস্টের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ হবে ১২ তারিখ: জামায়াত আমির

মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহর গঠনে সাতটি ভিত্তি তুলে ধরলো জামায়াত

বসবাসযোগ্য ও মানবিক শহর গড়ে তুলতে পলিসি ডায়ালগ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রকৌশল বিভাগ। এ পলিসি ডায়ালগে ৭টি পিলার বা ভিত্তি তুলে ধরে দলটি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বসবাসযোগ্য ও মানবিক শহর’ শীর্ষক এই পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়।

পলিসি ডায়ালগের প্রথম পর্বে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম জিয়াউল হাসান। তিনি বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্তের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন কীভাবে ঢাকাকে বসবাসযোগ্য ও মানবিক শহরে পরিণত করা সম্ভব।

এসময় তিনি মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহর গঠনের জন্য সাতটি ভিত্তির কথা তুলে ধরেন। এগুলো হলো- সবার জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিশ্চিত করা, নাগরিকদের জন্য সহজলভ্য আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, ৬৪ জেলা ও সব উপজেলা শহরকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন, গৃহায়ন ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনীতির চাকা সচল ও পুনর্গঠন।

এ টি এম জিয়াউল হাসান সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগকে উন্নত ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ৬৪ জেলাকে কীভাবে সহজ প্রক্রিয়ায় সমৃদ্ধ ও আধুনিক করা যায়, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন।

দ্বিতীয় পর্বের আলোচনায় বসবাসযোগ্য ও মানবিক শহরের জন্য জাতীয় লক্ষ্য ও নীতিমালা তুলে ধরা হয়। এই সেশন পরিচালনা করেন এক্সিস ট্রায়াংগেল গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান আলম।

এ পর্বে জানানো হয়, বিশ্বের ১৭৩টি সবচেয়ে খারাপ শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। ঢাকা শহরে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা হয় এবং বাস ও বেসরকারি যানবাহন থেকে প্রায় এক হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়। এছাড়া এই শহরে ৮২ শতাংশ নারী কোনো না কোনোভাবে হয়রানির শিকার হন।

আলোচনায় বলা হয়, জামায়াত ক্ষমতায় এলে এসব দৌরাত্ম্যের অবসান ঘটানো হবে এবং ঢাকা শহরকে একটি মানবিক ও বসবাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে। সেখানে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপন ও ফায়ার সেফটি, গ্রিন পার্ক, হাঁটা চলার উপযোগী পরিবেশ, ঢাকার চারপাশে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পানি ও যাতায়াত ব্যবস্থা (ওয়াটার ব্লু জোন) এবং উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যানজটমুক্ত নগর গড়ে তোলার কথা বলা হয়।

তৃতীয় পর্বে ‘বিল্ডিং টুগেদার’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর পরিকল্পনাবিদ ও সাবেক সচিব ও খন্দকার মো. আনসার হোসাইন। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও গবেষণা ছাড়াই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ফলে অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি অবকাঠামো ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এ কারণেই প্রতিদিন দুর্ঘটনার হার বাড়ছে।

খন্দকার মো. আনসার হোসাইন আরও বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশ ও বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে বাস্তবসম্মত উপায়ে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে প্রাণ ও প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে ভারসাম্য বজায় রেখে রাস্তা নির্মাণ, জলাশয়, পুকুর, ড্রেন, নালা, খাল-বিল ও নদ-নদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে বসবাসযোগ্য ও মানবিক শহর গড়ে তোলা হবে। যেখানে কোনো অনাচার থাকবে না, নারী ও শিশুর জীবন হবে নিরাপদ ও সহজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে কল্যাণের জন্য। সে কারণেই জামায়াতে ইসলামী মনে করে, ঢাকা শহর ও বাংলাদেশকে নিরাপদ, আধুনিক ও বসবাসযোগ্য করে গড়ে তোলা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ, আমরা ঢাকাকে একটি মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহরে পরিণত করতে চাই। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে আমরা জাতিকে এমন একটি শহর ও দেশ উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানে তিনটি পর্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম জিয়াউল হাসান, দেওয়ান এ এইচ আলমগীর (নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ), অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব (উপাচার্য, এমআইইউ), প্ল্যানার মেহেদী আহসান (সহ-সভাপতি, বিআইপি), ড. আদিল মোহাম্মদ খান (সাবেক সভাপতি, বিআইপি ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), ড. ফজলে এলাহী (সাবেক উপাচার্য, আইইউটি), প্রকৌশলী আবিদ হাসান সিদ্দিক (পরিচালক, রিহ্যাব ও সভাপতি, দি ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স, ডিসিএন), প্রকৌশলী শাহজাহান আলম (জাতীয় পরামর্শক- অগ্নি নিরাপত্তা ও পরিবেশ), খন্দকার মো. আনসার হোসেন (সাবেক প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ), মারদিয়া মমতাজ (সহকারী অধ্যাপক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি), ড. মাহবুবুল বারী (আন্তর্জাতিক পরিবহন বিশেষজ্ঞ) এবং ড. মুসলেহ উদ্দিন হাসান (অধ্যাপক, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, বুয়েট)।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা অংশগ্রহণ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025