শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
হুট করে প্লেনে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের নাই:তারেক রহমান শেরপুরে নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের জানাজায় মানুষের ঢল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের নারী সমাবেশ স্থগিত কওমি মাদরাসা আমাদের হৃদয়, আমাদের কলিজা: জামায়াত আমির বিদায় নিতে প্রস্তুত, অনেক উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন: খালিদ হোসেন উপকারী পশু এখন থেকে বিবেচিত হবে ‘প্রাণি’ হিসেবে প্রচারণার জন্য নয়, দলের কর্মীদের জন্য জামায়াতের বাস ‘৩ টি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করতেই পদত্যাগ করিনি’ জামায়াত আমীরের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূত মিলারের সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই আসনে দলীয় প্রতীক না রাখার অনুরোধ জামায়াতের

হুট করে প্লেনে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের নাই:তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি দেশে ১৭ বছর থাকতে পারিনি। তাহলে এত বছর দেশের উন্নয়ন কি হয়নি? যেখানে যায় সবাই বিভিন্ন বিষয়ে আবদার করে। তবে হুট করে প্লেনে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের নাই। আমাদের তো আর যাওয়ার কোনো জায়গা নাই।’

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ৭টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১৬ বছর দেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন ও পরিবর্তন হয়নি। আমরা গ্রামের মানুষের উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। নারীদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। মানুষ যেন নিরাপদ পথে-ঘাটে হাঁটতে পারে এবং নিরাপদে ঘুমাতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করা হবে। ঢাকার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। মেগা প্রকল্প মানে মেগা দুর্নীতি।’

কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কৃষকদের ভালো রাখলে দেশ ভালো থাকবে। কৃষকদের সুবিধার জন্য শহীদ জিয়া পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ মওকুফ করে দেবো। দেশের কৃষকদের পর্যায়ক্রমে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যা দিয়ে ফসলের যাবতীয় বীজ-সার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবো।’

তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকদের খরচ কমাতে ফসল ঢাকায় নিতে রেল ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে ট্রেনে চড়ে মানুষ সহজে ঢাকা যেতে পারে।’

নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মায়েদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিমাসে একটা সুবিধা দেওয়া হবে। গ্রাম-গঞ্জে মায়েরা ভালো চিকিৎসা সেবা পান না। এজন্য গ্রামে হেলথ কেয়ার করা হবে, যাতে ছোট অসুখ ঘরে বসে নিরাময় করতে পারে।’

শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘পড়ালেখা করলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন না, খেলোয়াড়ও হতে পারে। এজন্য স্কুল থেকে খেলা শিখতে হবে। বিদেশে গিয়ে সুনাম অর্জনসহ অর্থনৈতিকভাবে যাতে আয় করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আইটি সেক্টরে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা দেশে আসতে চায়। সেখানে আইটি অভিজ্ঞরা কাজ করতে পারবেন।’

ইমাম-মোয়াজ্জিনদের প্রতিমাসে সম্মানী দেওয়া হবে জানিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘সরকার গঠন করা হলে দাবিগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে।’

জুলাই-আগস্টে যারা গুম, খুনের শিকার ও আহত হয়েছেন; তাদের অনেক ত্যাগ রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। একপক্ষ চলে গেছে আরেক পক্ষ আছে। এজন্য ব্যালট বাক্স পাহারা দিতে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ভোট শুরু হলেই ভোট দিতে হবে।’

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরপর বগুড়ার উদ্দেশে রওয়ানা দেন তিনি।

নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হক সনি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম মিঠু, নওগাঁ ওলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি ইলিয়াস তুহিন, কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য ও মান্দা থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মতিন, জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, জেলা বিএনপির সভানেত্রী সাবিনা আক্তার পলি, সদর বিএনপির সভাপতি দেওয়ার মোস্তাক আহমেদ রাজা, পৌর বিএনপির সভাপতি ডা. মিজানুর রহমান মিজান, যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফিউল আজম টুটুল, যুবদল নেতা শামিনুর রহমান শামিম প্রমুখ।

জনসভায় নওগাঁবাসীর পক্ষ থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, শিশু হাসপাতাল, আত্রাই নদীর ওপর সেতু, একটি রেললাইন, কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কার ও জনবল বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার মানসহ বেশকিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025