মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন
জিয়া পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার উদোগে বাংলাদেশের গণতন্ত্রায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা শীর্ষক এক আলোচনা সভা এবং সেমিনার।
সিডনি অফিসঃ
বাংলাদেশের গণতন্ত্রায়নে আপোষহীন নেত্রী তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা শীর্ষক এক সেমিনার এবং আলোচনা সভা ২৫শে জানুয়ারী ২০২৬ রোজ -রবিবার,গ্রামীন ফাংশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।
জিয়া পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মোঃকামরুজ্জামান মোল্লা ঝিন্টুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খাইরুল কবির পিন্টুর পরিচালনায় আলোচক হিসাবে বক্তব্যে রাখেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হাছান,সিনিয়র সহ সভাপতি একেএম ফজলুল হক শফিক,ডাঃআব্দুল ওহাব বকুল,সাংগঠনিক সম্পাদক এএনএম মাসুম,ইউনুস সেন্টারের প্রমিথিউস সিদ্দিকী, নিউসাউথওয়েলস বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ ইরফান খান, সহ কোষাধ্যক্ষ তানবীর আহম্মেদ খান, প্রচার এবং দপ্তর সম্পাদক ইন্জিনিয়ার রাহান হাসনাত ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন থেকে তেলোয়াত ও দোয়া করেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কুদ্দুসুর রহমান।
আরো ও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাকির হোসেন রাজু,বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার প্রচার সম্পাদক লিন্টাস পেরেরা,নিউসাউথওয়েলস বিএনপির সহসভাপতি মোহাম্মদ বাবুল খন্দকার,মোহাম্মদ শাহিদুল্লাহ,মোহাম্মদ রাশেদ খান,তোফাজ্জল হোসেন,ইন্জিনিয়ার আজম মহি উদ্দিন,মোহাম্মদ শাহেদ প্রমুখ।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮০-র দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পর্যন্ত তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব:
জেনারেল এইচ এম এরশাদের ৯ বছরের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি রাজপথে আপোষহীন সংগ্রাম চালিয়েছেন । ১৯৮৩ সালে ৭-দলীয় জোট গঠন করে তিনি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং একাধিকবার গৃহবন্দী হওয়া সত্ত্বেও নতি স্বীকার করেননি । তাঁর এই অনমনীয় অবস্থানের কারণেই তিনি ‘আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান ।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা: ১৯৯১ সালের মুক্ত নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তাঁর সরকার বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থাকে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে রূপান্তরিত করে । ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট এই সংক্রান্ত সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী বিল সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয় ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন: ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে এবং অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার সংবিধানে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা (ত্রয়োদশ সংশোধনী) অন্তর্ভুক্ত করে । এরপর তিনি পদত্যাগ করে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, যা তাঁর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিচয় দেয় ।
নারী ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা সংস্কার: গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতে তিনি নারী শিক্ষার প্রসারে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেন। তাঁর সময়ে মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, শিক্ষা বৃত্তি এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়।
গণতন্ত্রের জন্য সম্মাননা: গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট তাঁকে ‘ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি’ (গণতন্ত্রের যোদ্ধা) উপাধিতে ভূষিত করে ।
সাম্প্রতিক ভূমিকা ও উত্তরাধিকার: রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়েও তিনি গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে অবিচল ছিলেন ।
মানুষের ভোটাধিকার এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন