বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সুযোগ দেওয়া জাতির জন্য আত্মঘাতী: জামায়াত হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির ভারতে মুসলিম হওয়ায় ত্রাণের কম্বল পেলেন না নারী, ভিডিও ভাইরাল ৫ আগস্টের পরের মামলাগুলো ফের যাচাই-বাছাই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেগুনাচালক খায়রুলকে হত্যার নিন্দা ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ চাইবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু ১২ মার্চ নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ৪ ডিএসসিসি মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেন আসিফ মাহমুদ

নিকাব নিয়ে বিএনপি নেতার বিরূপ মন্তব্য, প্রতিবাদে ইবিতে মানববন্ধন

মুসলিম নারীদের ব্যবহৃত পোশাক ‘নিকাব’ নিয়ে বিএনপি নেতার অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নারী শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক নারী শিক্ষার্থী এ মানববন্ধন অংশ নেয়।

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘লজ্জা আমার অলংকার, নিকাব আমার অধিকার’, ‘নিকাব আমার পরিচয়’, ‘ইসলামী সংস্কৃতির অপব্যাখ্যা রুখে দাও’, ‘হিজাব বিদ্বেষ বন্ধ কর, নারীর স্বাধীনতা রক্ষা কর’, ‘নিকাব নয় মানসিকতা বদলাও’, ‘নিকাব আমার সম্মান, নিকাব আমার মুক্তি’সহ বিভিন্ন প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া মাহমুদ মিম বলেন, ‘কেউ যদি পর্দা করে নিজেকে আড়াল করে, তাকে কটূক্তি করা অযৌক্তিক ও নিন্দনীয়। পোশাকের স্বাধীনতা বলতে শুধু জিন্স বা ওয়েস্টার্ন পোশাক নয়। ফ্রক পরা মেয়ে যেমন স্বাধীন, তেমনি বোরকা ও নিকাব পরা মেয়েরও সেই স্বাধীনতা থাকতে হবে। একটি মুসলিম দেশে শুধু ওয়েস্টার্ন কালচারের পোশাককে স্বাধীনতার মানদণ্ড বানানো লজ্জাজনক। বোরকা হোক বা জিন্স, নারীর পোশাক নিয়ে বিভাজনমূলক মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।’

ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাজমিন রহমান বলেন, ‘বিএনপির একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিজাব এবং নিকাব নিয়ে কি পরিমাণ নোংরা মন্তব্য করেছেন। আমরা নারী শিক্ষার্থীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটা তার নারীর প্রতি বিদ্বেষ, অজ্ঞতা ও নোংরা মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ছিল। বিএনপি নেতা হয়ে তিনি কীভাবে বলে যে নিকাব পতিতাবৃত্তির পোশাক? নিকাব কোনো পেশার পোশাক হতে পারে না। নিকাব মুসলিম সমাজে বহুকাল ধরে প্রচলিত নারীদের আত্মমর্যাদার প্রতীক। তিনি এ বক্তব্যের মাধ্যমে নারীদের চরিত্রে কাদা ছুড়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, নারীদের চরিত্রে যেহেতু তিনি কাদা ছুড়েছেন তার উল্টো প্রতিঘাত তাকে নিতে হবে। বিএনপিকে দেখাতে হবে তারা এই নেতার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন। অন্যথায় আমরা ধরে নেব এই বক্তব্য বিএনপি ধারণ ও লালন করে। এই নেতারা যখন সংসদে যাবে, আমার মনে হয় আমরা নিকাব করার কারণে জেলে যেতে পারি। অবিলম্বে এই নেতারা বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। নারীর সম্মান নিয়ে আর কোনো ছিনিমিনি চলবে না। নিকাব আমার অধিকার, সম্মান, স্বাধীনতা।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে- ‘নিকাব মুসলমানদের ড্রেসই না। ইহুদি নারীরা যখন বেশ্যাবৃত্তি করতো তখন নেকাব পরতো।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025