মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
নিজস্ব প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে আলিম পরীক্ষার্থীর মৃত্যু সিরাজগঞ্জে আমির হামজা এমপির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা সংরক্ষিত নারী আসনে ৫৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র পেয়েছে ইসি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, অংশ নিচ্ছে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী সরকারের সঙ্গে কি এস আলম গ্রুপের সমঝোতা হয়েছে: অর্থমন্ত্রীকে হাসনাত সরকার ৫২ দিনে ৪৪ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়েছে: সংসদে রুমিন ফারহানা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াবের বৈঠক

যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে দেশের সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি: শিবির সভাপতি

যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে দেশের বিপুল সম্ভাবনা আজও কাজে লাগেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বেকারত্ব, মাদক ও নৈতিক অবক্ষয় সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এই সংকটকালে চরিত্র গঠন ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে ছাত্রসমাজকে নতুন জাগরণের পথে এগিয়ে নিতে কাজ করছে ছাত্রশিবির।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ২০২৫-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রের মাধ্যমে এ ভূখণ্ডের মানুষ রাজনৈতিক মুক্তি ও উন্নত শাসনব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকদের ব্যর্থতায় সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। তবে স্বাধীনতার পর ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত একদলীয় শাসন, বাকশাল প্রতিষ্ঠা, ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ ও বাকস্বাধীনতা হরণের ফলে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তরুণ সমাজের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই একটি আদর্শিক ছাত্র সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং সততা ও নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে শিবির সভাপতি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দুর্নীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও জবাবদিহিতার অভাবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ভোটাধিকার হরণ, ভিন্নমতের দমন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ইসলামী মূল্যবোধ দমনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন দেশে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। এ সময় পরিকল্পিতভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ‘ডিহিউম্যানাইজেশন’-এর শিকার করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে শাহবাগকে কেন্দ্র করে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ বিচারের নামে দমন-পীড়ন চালানো হয়। হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ওপর কঠোর নিপীড়ন চালানো হয় এবং দাড়ি-টুপি পরাকে জঙ্গিবাদের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন, তরুণদের আত্মত্যাগ ও শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা জাতির মধ্যে নতুন আদর্শিক জাগরণ সৃষ্টি করেছে। এই জাগরণ সাহসিকতা ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার শিক্ষা দিয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা জাতির মুক্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট, আবাসন সংকট ও গবেষণার অভাব শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন নষ্ট করছে। এসব সমস্যা সমাধানে চলতি বছর ছাত্রশিবির যুগোপযোগী ৩০ দফা শিক্ষা ও সমাজ সংস্কার প্রস্তাবনা পেশ করেছে বলেও তিনি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025