বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :

খারাপ কিছু রাজনীতিবিদের কারণে দেশের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সমাজে ভালো মানুষ অনেক; কিন্তু কিছু খারাপ রাজনীতিবিদের কারণে দেশের সামগ্রিক সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে দুর্নীতির পাতাগুলো নয়, এর মূলটাই তুলে ফেলবো। রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মহাখালীর বিএমআরসি ভবনে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশের মানুষ স্বভাবগতভাবে খারাপ- এই ধারণা তিনি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর কয়েক দিন দেশে যখন কার্যত কোনো সরকার, পুলিশ বা সেনাবাহিনী ছিল না, তখন কোথাও ব্যাংক বা স্বর্ণের দোকান লুট হয়নি। এটি প্রমাণ করে দেশের মানুষ ভালো। সমস্যা হলো, আমাদের মতো কিছু রাজনীতিবিদ খুব খারাপ। ওই খারাপদের কারণেই ভালো মানুষের জন্য ভালো দেশ তৈরি হয়নি।

কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডারদের অপ্রতুল বেতনের তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা যে বেতন পান, তা দিয়ে রাজধানীতে সাদামাটা একটি বাসাও ভাড়া করা যায় না। যারা মন উজাড় করে সেবা দেন, তাদের ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পুলিশের বেতন যদি ২৫ হাজার টাকা হয়, তাহলে তারা জীবনের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত হবেন না। সমাজের প্রতি আস্থা তৈরি হলে তখনই তারা ঝুঁকি নিতে রাজি হবেন।

দেশে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে মানসম্মত শিক্ষা নেই, নেই সঠিক ক্যারিয়ার নির্বাচনের ব্যবস্থা। সন্তানের যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী শিক্ষকরা বিষয়ভিত্তিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা থাকলেও, এখন ক্লাস হয় শিক্ষকের বাসায়; ফলে যারা প্রাইভেট টিউশনি করতে পারে না, তারা ঝরে পড়ে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চা-বাগানের শ্রমিকের সন্তান হোক বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সন্তান, সবার মৌলিক শিক্ষার অধিকার সমান। যাদের আমরা অবহেলায় বড় হতে দিই, তারাই একসময় সমাজের বোঝায় পরিণত হয়; অথচ তাদেরই জনসম্পদে পরিণত হওয়ার কথা।

উপজাতি, সম্প্রদায় বা পেশাভিত্তিক বিভাজন সৃষ্টি নিয়ে সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, একই ভাষায় কথা বলি, একই ক্লাসে পড়ি, একই মাঠে দায়িত্ব পালন করি, একই খাবার খাই, তারপরও কেন আমাদের ভাগ হতে হবে? তার মতে, যেখানে বিভাজন থাকে সেখানে ঘর্ষণ থাকে; আর ঐক্য থাকলে আসে সহযোগিতা। জাতি ঐক্যবদ্ধ না হলে দেশ এগোতে পারে না।

গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১০০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল সরবরাহ করা হবে। বেসিক লেভেল শক্তিশালী হলে ওপরের স্তরের ৯০ শতাংশ চাপ কমে যায়। সরকারে যাই বা না যাই এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে, এটি আমাদের পক্ষ থেকে সামাজিক কল্যাণের প্রতীকী উপহার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতি জনগণের সেবা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি শুধু নদীতে ভেসে চলা মাঝি হতে চান না; বরং গন্তব্যে পৌঁছে মানুষের উপকারে আসতে চান, জনগণের অংশ হতে চান। তিনি আরও বলেন, যদি দায়িত্ব পান, তাহলে জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাউকে আর ধর্ণা, মিছিল বা সমাবেশ করতে হবে না। সরকারের কাজ হলো মানুষের অধিকার তাদের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেওয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025