শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করতে ন্যায় ও ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সাভারে দুই দিনব্যাপী ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারিদের নিয়ে আয়োজিত শিক্ষাশিবিরে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন। সঞ্চালনা করেন ঢাকা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন।
প্রধান অতিথি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা নয়, বরং নাগরিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তিনি রাষ্ট্র, জাতি-রাষ্ট্র ও ইসলামী রাষ্ট্রের ধারণা এবং এসবের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে আদল বা ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে দুর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম ও নৈতিক অবক্ষয় বিস্তার লাভ করে। মদ্যপান, অবৈধ বাণিজ্য, ঘুষের বিনিময়ে বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা—এসব সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যক্তির চরিত্র ও নৈতিকতার উন্নয়ন অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। রুকন হিসেবে শপথের মাধ্যমে যে দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে, সাংগঠনিক নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি সংগঠনের প্রতি আনুগত্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, সামষ্টিক পর্যায়ে অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো জনগণের একটি অংশের মধ্যে ইসলামের সঠিক জ্ঞানের অভাব। তাই মানুষের কাছে ইসলামের সঠিক শিক্ষা, ন্যায়-ইনসাফ, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বার্তা পৌঁছে দিতে কর্মীদের আরও সক্রিয় হতে হবে। বর্তমান সময়ে কাজের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি নবী-রাসূলদের জীবনের বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রতিকূলতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে গেলে প্রতিবন্ধকতা আসবেই। পবিত্র কুরআনের সূরা ইয়াসিনের ৩০ নম্বর আয়াতে পূর্ববর্তী জাতিগুলোর নবী-রাসূলদের প্রতি বিদ্রূপের কথা উল্লেখ রয়েছে—“কোনো রাসূল তাদের কাছে আসেননি, যাকে তারা উপহাস করেনি।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দাওয়াতি ও সাংগঠনিক কাজে প্রতিকূলতা দেখে হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। বরং আত্মশুদ্ধি, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও গণসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।
শিক্ষাশিবিরে সাংগঠনিক দায়িত্ব, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, আত্মশুদ্ধি, পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা, পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
একটি অনুষ্ঠানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট মো. মসিউল আলম বলেন, দক্ষ, প্রশিক্ষিত, দায়িত্বশীল ও নৈতিকভাবে উন্নত কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে পারলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এজন্য প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিষ্ঠা, ধৈর্য ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শিক্ষাশিবিরে দিনের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে দারস পেশ করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ।
সহীহ কুরআন শিক্ষা প্রদান করেন তালিমূল কুরআন ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় প্যানেল ওস্তাদ ড. হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুল জব্বার, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মোঃ শাহীনুর ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ।