রবিবার, ২৬ Jul ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন
গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত তথ্য নয় বরং বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-এ প্রকাশিত তথ্য।
রোববার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে, যা বর্তমান সময়ের দুই-তিনটি জাতীয় বাজেটের সমান।
বিগত সরকারের সময় দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি খুলনায় প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে এলজিইডির হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ কাগজে-কলমে দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কথা তুলে ধরেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনজীবী হওয়ার কোনো শর্টকাট পথ নেই। প্রতিদিন নতুন কিছু শিখতে হবে। অর্থের পেছনে না ছুটে মানুষের সেবা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পেশাগত সততা বজায় রাখতে হবে। নিজের দলের কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো আইনজীবীদের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মশালায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে ১ হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আইনজীবীদের পেশাগত সততা, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ সরকার যাচাই-বাছাই করছে। জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগগুলো তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার চায় না অন্যায়ভাবে কেউ কষ্ট পাক। তবে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে আইনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকার সংবিধান অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং দেশবাসীকে সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ. জি. এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন।