শুক্রবার, ২৪ Jul ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা নয়: জামায়াত আমির

বৈষম্যমুক্ত ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং খুন, গুম, হত্যা, সন্ত্রাস ও ‘আয়নাঘর’ থেকে মুক্তির জন্যই জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। টালবাহানা পরিহার করে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে মিরপুর-১০ সংলগ্ন এলাকায় জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তর মিরপুর জোন আয়োজিত জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবিতে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ৫ বছরের জন্য ক্ষমতা বুকিংয়ের পর অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল হতাশা। কিন্তু আল্লাহ তা’য়ালা তার রহমত থেকে হতাশ হতে নিষেধ করেছেন। এরপরই জুলাই দেশ ও জাতির মুক্তির পয়গাম নিয়ে এসেছিল।

তিনি বলেন, মূলত জুলাই এসেছিল ঘূর্ণিঝড় হয়ে। আর এ ঝড়েই ফ্যাসিবাদকে তছনছ করে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিয়েছিল।

তিনি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশ ছেড়ে পালানোর তিনি ‘এই আসলাম’ বলে এসেছেন প্রতিনিয়ত। এভাবে তিনি ১৩ বার ফেল করেছেন।

তিনি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন যুব সমাজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে। তারা ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত আছে।

তিনি জুলাই গণহত্যার বিচারে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ও সংসদ জুলাই বিপ্লবের ফসল। তাই সরকারকে জুলাই বিপ্লবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে।

তিনি জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু বিচার নয় বরং জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা এবং তারা যাতে সম্মানজনকভাবে বাঁচতে পারেন সে ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকেই। জুলাই শহীদদের দিতে হবে জাতীয় বীরের মর্যাদা। তাদের পরিবারে সদস্যদের প্রতিও যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। কারণ, জুলাই যোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।

জামায়াত আমির বলেন, ‘সরকার এখন গণভোটের রায়কে অবৈধ বলছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছেন, আমরাও করেছি। গণভোট অবৈধ হলে সরকার ও সংসদ সবই অবৈধ। গোস্ত হালাল হলেও ঝোল হারাম হওয়ার সুযোগ নেই। তাই গণভোট হারাম হলে সরকারও হারাম। আর সরকার হারাম হলে দেশে কোনো বৈধ সরকার নেই।’

তিনি জনগণের অভিপ্রায়ের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের মতামতই সবারই ওপর। আর প্রয়োজনের তাগিদের ওপর কোনো আইন নেই।

তিনি সরকারকে টালবাহানা পরিহার করে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায় এজন্য তাদের চড়ামূল্য দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা।

বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, মহানগরী পশ্চিম শিবির সভাপতি মুহিবুল্লাহ আল হোসাইনিসহ অনেকে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025