রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :

সংসদে স্পিকারের নাম ধরে ডাকায় তোপের মুখে পার্থ

জাতীয় সংসদের স্পিকারকে ‘হাফিজ সাহেব’ সম্বোধন করে তোপের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। এ বিষয়ে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আপত্তি তুললে আন্দালিব রহমান পার্থ দুঃখপ্রকাশ করেন।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৬তম দিনে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন আন্দালিব রহমান পার্থ। এসময় তার বক্তব্যের একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বক্তব্যের একপর্যায়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘হাফিজ সাহেব (স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ) থাকলে উনি বিষয়টি রিলেট করতো, কারণ উনি ভোলার মানুষ।’ এসময় পার্থের কাছে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানতে চান, ‘হাফিজ সাহেব কে?’ পরে পার্থ বলেন, ‘সরি সরি, স্পিকার সাহেব, আই অ্যাম সো সরি।’

নিজের নির্বাচনি এলাকা ভোলার উন্নয়ন নিয়ে জোরালো দাবি জানান পার্থ। তিনি বলেন, ‘একটি পরিবারে তিন সন্তানের মধ্যে কেউ অঙ্কে ভালো হলে বাবা-মা তার জন্য আলাদা টিচার রাখেন। ভোলায় ১.৩ ট্রিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস আছে। আমাকে অঙ্কের টিচারের মতো আলাদা করে দেখা উচিত। মন্ত্রীদের আমার পিছে ঘোরা উচিত, অথচ আমি হাসপাতাল, এয়ারপোর্ট ও ব্রিজের জন্য ঘুরছি।’

বাজেটের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে পার্থ বলেন, ‘এই বাজেটে ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সরঞ্জামের ওপর কর কমানো, স্টার্টআপ সাপোর্ট এবং ক্যানসার-হার্ট-চোখের চিকিৎসার মতো ওষুধের দাম কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই বাজেটে আমি একটি মেসেজ দেখেছি- একটি স্বৈরাচার আর একটি জনগণের সরকারের মধ্যে পার্থক্য।’

বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) ট্র্যাক রেকর্ড গত ১৭ বছর ভালো ছিল না, কারণ তখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি হয়েছে।
দরবেশ-লুটেরারা কীভাবে দেশ লুট করবে, তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জনগণকে শুধু ২০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু দেখানো হয়েছে, যা যথেচ্ছা টাকা দিয়ে বানিয়ে একটি সিম্বল অব অ্যারোগেন্স (অহংকারের প্রতীক) হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। শাহজাহানের তাজমহল যেমন অহংকারের প্রতীক ছিল, এটিও তা-ই। অথচ তখন মানুষের অধিকার হরণ করা হচ্ছিল।’

বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘আপনারা গত চার মাসের পত্রিকা খুলে একটি ব্যাংক লুটের খবর দেখাতে পারবেন না। পলিটিক্যালি প্যাট্রোনাইজড (রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায়) কোনো দুর্নীতি নেই। তাই আমাদের বেনিফিট অব দ্য ডাউট দিন। বাজেট নিয়ে রাজনীতি না করে এটিকে জাতীয় ইস্যু হিসেবে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’

মদিনা সনদের ন্যায়বিচার ও মানবিকতার উদাহরণ টেনে তিনি দেশে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি প্রসারের প্রস্তাব দেন। পার্থ বলেন, ‘যাকাত আমাদের অর্থনীতির বড় একটি অংশ, কিন্তু এটি হিডেন (লুকায়িত)। আমার প্রস্তাব হলো, প্রত্যেকটি নির্বাচনি আসনে যাকাত পাওয়ার যোগ্য মানুষদের নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হোক। এতে প্রবাসীরাও সহজে যাকাত দিতে পারবেন। এ ছাড়া যাকাত দাতা ও গ্রহীতাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে একটি ‘যাকাত টেলিভিশন’ চালু করা যেতে পারে।’

ইসলামিক ব্যাংকিং প্রসারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসলামিক ব্যাংকিং এখন সারাবিশ্বে ট্রেন্ড। ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়া সব জায়গায় এটি জনপ্রিয়। একটি ইসলামী ব্যাংকে ডাকাতি হয়েছে বলে সিস্টেম খারাপ হয়ে যায়নি, ডাকাত খারাপ ছিল। আমরা উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তি চাই, ডিভাইন ব্লেসিং (আল্লাহর রহমত) চাই। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শুধু উন্নয়ন চাই না, যেখানে আত্মহত্যার হার বিশ্বে সর্বোচ্চ।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025