বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
আওয়ামী লীগ আমলের গুম-খুনের বিচার করুন, না হয় যাওয়ার রাস্তা খুঁজুন:জামায়াত আমির যারা সমঝোতা করছে, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতোই হবে: নাহিদ ইসলাম হাদির হত্যাকারীরা ভারতে জামাই আদরে প্রতিপালিত হচ্ছে: মামুনুল হক জুলাই যোদ্ধাদের যে কোনো আইনি সুরক্ষা দিতে প্রস্তুত সরকার: আইনমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে আয়নাঘরের চেয়ারে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হোক: সংসদে রেহানা আক্তার রানু নোয়াখালীতে মিনি ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত ক্ষমতায় বসার পর বিএনপির সুর পাল্টে গেছে: জামায়াত আমির ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ কার্যকরে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার অজুহাতে বয়স্ক বাবাকে অবহেলা করছেন না তো?-নোমান আলী খান সংসদের সবাইকে ১০ কেজি করে আম উপহার, প্রশংসায় ভাসছেন জামায়াত আমির

আওয়ামী লীগ আমলের গুম-খুনের বিচার করুন, না হয় যাওয়ার রাস্তা খুঁজুন:জামায়াত আমির

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এ আহ্বান জানান। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন। না হয় যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।’

আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত সব গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে ১১ দল আয়োজিত এ সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের জাতাকলে পিষ্ট এই জাতিকে আল্লাহতাআলা আমাদের ছাত্র, শ্রমিক, যুব ও জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাত্র দুই বছর আগে মুক্তি দিয়েছিলেন।’

‘সেই সময় যে দলটি আমাদের মতোই মজলুম ছিল, নির্যাতিত ছিল, আজকে তারা ক্ষমতায় আছে’ মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘তারা তখন প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছিল। নির্বাচনের সময় তারা বলেছিল, নির্বাচিত হলে যত হত্যা ও নির্যাতন হয়েছে সবগুলোর বিচার করবে। ক্ষমতায় বসার পর এখন তাদের সুর পাল্টে গেছে। বিচার তো তারা করছেই না, বরং চার মাসে ৬০০ জনের অধিক মানুষ নির্মমভাবে বাংলার মাটিতে খুন হয়েছে। আরও দুঃখজনক, এই দলটি নিজেদের হাতে নিজেদের কর্মীদেরই খুন করেছে। যাদের নিজেদের কর্মীদের সম্পর্কে নিজেদেরই কোনো দায় এবং দরদ থাকে না, ২০ কোটি মানুষের জন্য তাদের কী দায় এবং দরদ থাকবে?’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘লজ্জার বিষয়, সরকার ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে ঠিক ফ্যাসিবাদের রাজপথ ধরেই এখন হাঁটা শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, বিভিন্ন ব্যাংকে অযাচিত হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলো দলীয় অনুগতদের দিয়ে দখল করা, জেলায় জেলায় প্রশাসক বসিয়ে দেওয়া, এমনকি খেলার মাঠটাও পর্যন্ত তারা দলমুক্ত রাখতে পারলেন না। এইভাবে তারা আবার কার্যত একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে পথে হাঁটছেন, সংসদে আমরা প্রতিটি বিষয়েই প্রতিবাদ করছি। দুই-তৃতীয়াংশ (সংখ্যাগরিষ্ঠতা) কীভাবে পেয়েছেন, আপনারাই ভালো জানেন। আর এ দেশের জনগণ জানে। এবং এই ব্যাপারে কিছু রাজসাক্ষী এরই মধ্যে পাওয়া গেছে।’

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কারও বাবার সাধ্য নাই এ দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে টানাটানি করা। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আপনাদের আগামীর সেই বিপ্লবের দাওয়াত আজকে দিয়ে রাখলাম।’

সংসদে যতদিন পর্যন্ত কথা বলার পরিবেশ থাকবে, জাতির স্বার্থে যতদিন পর্যন্ত থাকার দরকার হবে, তার বাইরে জামায়াত এক সেকেন্ডও থাকব না- এমন মন্তব্য করে দলের আমির বলেন, ‘যেদিন সংসদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, যেদিন মনে হবে সংসদে বলে লাভ নাই, সেদিন সেই সংসদে খোদা হাফেজ বলে আমরা বেরিয়ে আসবো।’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025