মঙ্গলবার, ১৬ Jun ২০২৬, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দিল্লিতে প্রবেশে বাধা ,ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ গৃহবধূকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার দুই চট্টগ্রামে যানজট কমাতে এআইভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার উদ্যোগ ডিসি নিয়োগের প্রতিটি হয়েছে দলীয় বিবেচনায়: রুমিন ফারহানা ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য পারস্পরিক সম্মানবোধের পরিপন্থি: জামায়াত সেক্রেটারি হিজাব নিয়ে মন্তব্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ পোশাক নিয়ে মন্তব্য: মনিরুল হক চৌধুরীকে ক্ষমা চাইতে বললো এনসিপি যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল চেয়ারম্যানসহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিল

ডিসি নিয়োগের প্রতিটি হয়েছে দলীয় বিবেচনায়: রুমিন ফারহানা

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনা চলাকালে সরব ভূমিকা পালন করেছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। অধিবেশনের এক পর্যায়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে সুযোগ না পেয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ নিয়ে খোদ মন্ত্রীর সামনে ক্ষোভ উগরে দেন স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশের জেলাগুলোতে যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিটিই দলীয় বিবেচনায় বা মনোনীত হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে, সম্পূরক মঞ্জুরি দাবির ওপর দেওয়া ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি ডিসি নিয়োগ ও বাজেট নিয়ে এসব সমালোচনা করেন।

স্পিকার রুমিন ফারহানাকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানালে তিনি আকস্মিকভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য শুরু করেন। স্পিকার তাকে থামিয়ে দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এখন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আলোচনার টার্ন চলছে এবং এটি প্রশ্নোত্তর পর্ব নয়।

জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে তিনি সামনে পেয়েছেন, পরে আর ওনাকে পাবেন কি না তার নিশ্চয়তা নেই। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রশ্ন জমা দিলেও তা আসে না, সম্পূরক প্রশ্নের জন্য হাত তুললেও সুযোগ মেলে না। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়েই তিনি ছাঁটাই প্রস্তাবের সময়কে কাজে লাগিয়ে মন্ত্রীর কাছ থেকে জবাব চান।

স্পিকার তখন তাকে বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে বলেন, তিনি চাইলে এখনই স্থানীয় সরকার নিয়ে বলতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ হারাবেন। রুমিন ফারহানা এই সুযোগ লুফে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবেই বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং নির্ধারিত তিন মিনিটের মধ্যে নিজের দাবি ও ক্ষোভ তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে সরাসরি অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি দেশের জেলাগুলোতে যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিটিই দলীয় বিবেচনায় বা মনোনীত হয়েছে। দেশের মানুষ গত ১০ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য নিরবচ্ছিন্ন লড়াই-সংগ্রাম করেছে, অথচ বর্তমান সরকার গঠনের প্রায় চার মাস পার হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ের শাসনব্যবস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে প্রতিটি জেলা ডিসিদের অধীনে শাসিত হচ্ছে, যা সরাসরি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি দাবি করেন।

একইসঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে বাজারে নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে মন্ত্রীর কাছ থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চান।

এছাড়া, অর্থনৈতিক খাতের ওপর আলোকপাত করে রুমিন ফারহানা দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে অর্থমন্ত্রী কী করে এই বাজেট বাস্তবায়ন করবেন সেই প্রশ্ন তোলেন। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জিডিপির আকার ৬৮ লাখ কোটি টাকা হলেও প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। খেলাপি ঋণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যার পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে মূলধনের পর্যাপ্ততা ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশ থেকে নেমে মাত্র ৫ শতাংশে এসে ঠেকেছে। এছাড়া, বাণিজ্য ঘাটতি ২২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়া রপ্তানির হ্রাস এবং আমদানির বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।

শ্বেতপত্রের তথ্য ও গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির বরাত দিয়ে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে গত ১৫ বছরে পাচার হয়ে গেছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, বছরে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। অন্যদিকে, ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বছরে আট বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে বাইরে গেছে। বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দৃশ্যমান ব্যবসা নেই এমন লোকদের ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং পরিবারের হাতে ব্যাংকগুলোকে একটির পর একটি তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সুদহার ও ডলারের দাম ঠিক করা হয়েছে এবং ডলারের ওপর চাপ কমাতে দাম ধরে রাখা হলেও ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার এই খাত থেকে বিদেশে চলে গেছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, শেয়ারবাজার এবং কর ব্যবস্থাপনা উন্নত না হলে পুরো চাপ গিয়ে পড়বে ব্যাংক খাতের ওপর। ঘাটতি বাজেট সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, এই ঘাটতি পূরণ হয় দেশের ব্যাংক কিংবা বিদেশি ঋণ বা অনুদানের মাধ্যমে। কিন্তু ব্যাংক খাত যেখানে অলরেডি খেলাপি ঋণে জর্জরিত, সেখানে তারা ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য কোনো ঋণ দেওয়ার অবস্থায় নেই। আইএমএফ সম্প্রতি জানিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশে ঋণের চুক্তির পরবর্তী কিস্তিগুলো নতুন সরকারকে আর দেবে না এবং নতুন করে চুক্তি করতে বলছে। ফলে, এখন ঋণের জন্য আমাদের চীন বা এরকম কোনো দেশের দিকে তাকাতে হবে। এডিবি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা আইএমএফ-এর বাইরে গিয়ে যখন কোনো ভিন্ন দেশ থেকে ঋণ নেওয়া হয়, তখন সুদের হার অনেক বেশি থাকে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটি পরিশোধেরও একটা চাপ থাকে।

এই তীব্র সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে অর্থমন্ত্রী কী করে এই বাজেট বাস্তবায়ন করবেন এবং পরিচালন ব্যয়ের জন্য চাওয়া বিশাল অঙ্কের টাকা কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে তিনি তীব্র সংশয় প্রকাশ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025