সোমবার, ১৫ Jun ২০২৬, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
চেয়ারম্যানসহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিল জামায়াতের নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ নারী এমপিদের পোশাক- মনিরুলের বক্তব্য হীন মানসিকতা ও বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ: নাহিদ দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর আহমেদকে দ্রুতই দেশে আনা হবে :সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মেহেরপুর জেলা সমিতির উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী, বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পতাকা বৈঠকেও মেলেনি ফল, সীমান্তে ঝুলছে পুশ-ইনের শিকার ১২ জনের ভাগ্য লেকে নেমে প্রাণ গেলো একই পরিবারের ৩ জনের ইতিহাস ঠিকভাবে কথা বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হয়: তথ্যমন্ত্রী

অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহারের প্রবণতা রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন (ভিএজি) বাস্তবায়ন’ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ড (এএমআরএমপিটিই) প্রকল্পের সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে প্রাণিসম্পদ খাতেও এর অপব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, প্রান্তিক খামারিদের অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে রোগ নিরাময়ের আশায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন, যদিও এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তারা যথেষ্ট সচেতন নন। ফলে সচেতনতার ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এক্ষেত্রে তিনি ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন, কোনো ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে কঠোরভাবে তদারকি ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা একটি সমন্বিত চেইনের মাধ্যমে ভেটেরিনারি চিকিৎসক, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং খামারিদের একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারি, তাহলে বরিশালের মতো সাফল্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অর্জন সম্ভব হবে। তিনি খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদনে সরকারের পাশাপাশি সব অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও বাংলাদেশের প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. মো. বয়জার রহমান।

কর্মশালায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউওএএইচ) জাতীয় এএমআর পরামর্শক ড. মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর), ওয়ান হেলথ এবং দায়িত্বশীল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন।

এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ), খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025