রবিবার, ১৪ Jun ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
পতাকা বৈঠকেও মেলেনি ফল, সীমান্তে ঝুলছে পুশ-ইনের শিকার ১২ জনের ভাগ্য লেকে নেমে প্রাণ গেলো একই পরিবারের ৩ জনের ইতিহাস ঠিকভাবে কথা বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হয়: তথ্যমন্ত্রী জনমত উপেক্ষা করা গণতন্ত্র পরিপন্থি: জামায়াত আমির গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা ১১ দলীয় জোটের শাপলা চত্বরের শহীদদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা চান মামুনুল হক প্রযুক্তিতে দক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: আইসিটি মন্ত্রী বাংলাদেশ বদলেছে, কিন্তু বিএনপির খাসলত বদলায়নি: ব্যারিস্টার ফুয়াদ বাজেটে চাঁদাবাজির স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে: নাসীরুদ্দীন ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা ১১ দলীয় জোটের

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোট। জোটের নেতারা বলেছেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে জোটের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে সরকার জনগণের রায় মানে না সে সরকার জনগণের সরকার হতে পারে না। জনমত অগ্রাহ্য করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থি। সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত জনগণই তার জবাব দেবে।

জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন খাতে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের মূল্যায়নের পরিবর্তে দলীয়করণ করা হচ্ছে। সংসদে দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতি ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হবে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারেরও প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন সংসদ ও রাজপথ— উভয় জায়গায়ই অব্যাহত থাকবে। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করা যাবে না।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে মানুষ চরম ভোগান্তিতে থাকলেও এসব সংকট মোকাবিলায় বাজেটে কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সামাজিক অস্থিরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তিনি জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও জনমতের বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ না করে জনগণের দাবি মেনে নেওয়াই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সঠিক পথ।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপসের কোনো সুযোগ নেই। সীমান্ত হত্যা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে টালবাহানা বন্ধ করতে হবে। জনগণের ভোট ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে জনগণই তার জবাব দেবে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক শক্তি টিকে থাকতে পারবে না। জাতীয় স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্নীতি, দখলদারত্ব ও চাঁদাবাজি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণ এসবের অবসান চায়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025