রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ ছয় দশকের দ্রাবিড় আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়) ইতিহাস গড়লেন। রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেন থালাপতি। গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ পড়ান।
তামিলনাড়ুর নতুন সরকারের শপথ নেওয়া অন্য মন্ত্রীরা হলেন- এন আনন্দ, আধব অর্জুন, রাজমোহন, আর নির্মল কুমার, পি ভেঙ্কটরামানান, কে জি অরুণ রাজ, কে এ সেনগোট্টাইয়ান, টি কে প্রভু ও সেলভি এস কীর্তনা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিক ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ছিলেন থালাপতি বিজয়ের মা–বাবা, অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানসহ আমন্ত্রিত অতিথি ও সমর্থকেরা। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও এসেছিলেন।
জোট গঠন নিয়ে কয়েক দিনের নাটকীয়তার পর গতকাল শনিবার দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে লোকভবনে গিয়ে গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে বৈঠক করেন থালাপতি বিজয়। এরপর তিনি বিজয়কে সরকার গঠনের আহ্বান জানান।
গত সোমবার তামিলনাডু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে সবচেয়ে বেশি আসন পায় তামিল চলচ্চিত্রের নায়ক থেকে রাজনীতিতে এসে চমক দেখানো থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে)। তারা পায় ১০৮টি আসন। এর মধ্যে ৫১ বছরের থালাপতি জিতেছেন দুটি আসনে। তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। গত শুক্রবার পর্যন্ত টিভিকের সমর্থন ১১৬ আসনে আটকে ছিল। এ কারণে গভর্নর সরকার গঠনের আহ্বান জানাননি। গতকাল বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) নামের দুটি রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকেকে সমর্থন দিলে পরিস্থিতি বদলে যায়। এ দুই দলের দুটি করে চারটি আসন যোগ হয়ে জোটের শক্তি দাঁড়ায় ১২০ আসনে।