শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় উভয় পক্ষই সংঘর্ষের কথা স্বীকার করেছে। একই সময়ে ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ ও রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথম বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে। সেখানে ঘটনাটিকে ইরানি বাহিনী ও ‘শত্রুপক্ষের’ মধ্যে গোলাগুলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তাদের দাবি, এর জবাবে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত শত্রুপক্ষের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়ার সময় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ‘কোনও ধরনের উসকানি ছাড়াই’ ইরানি হামলার মুখে পড়ে।
তাদের দাবি, ইউএসএস ট্রাকস্টন, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা ও ইউএসএস ম্যাসনের ওপর ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান দিয়ে হামলা চালায়। তবে এতে মার্কিন বাহিনীর কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নিয়ন্ত্রণকক্ষ এবং নজরদারি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তবে নিজেদের বাহিনী রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্তৃপক্ষ ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের কাছে আরেকটি জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে।
ইরানের দাবি, বান্দার খামির, সিরিক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় এলাকাতেও আকাশপথে হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন সামরিক জাহাজে হামলা চালিয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে বলেও দাবি করা হয়।
পরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর নৌ শাখাও একই ধরনের অভিযোগ তোলে। তারা জানায়, জাস্ক বন্দরের কাছে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলার জবাবে তীব্র বিস্ফোরক ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এর পর শত্রুপক্ষের তিনটি জাহাজ দ্রুত হরমুজ প্রণালি এলাকা ত্যাগ করে।
এদিকে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ ও তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদক জানান, বন্দর আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কোনও হতাহত হয়নি এবং সেখানকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, পাল্টাপাল্টি হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল আছে।