শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন

হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। সংক্রমণ বাড়ার এই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছিল, আর বাকি ৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে আক্রান্তদের আলাদা রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা। এতে আক্রান্ত শিশুদের মাধ্যমে দ্রুত অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শয্যা সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্তদের সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি রাখতে হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত পৃথক রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫৫৯ জনে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২৩১ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ১৯ হাজার ৭০৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ হাজার ৫২৭ জন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৯৮ জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ২১৫ জন সন্দেহভাজন হামরোগী শনাক্ত হয়েছেন।

আক্রান্তদের বড় একটি অংশই শিশু। রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসার ফলে এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শিশুদের জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025