শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি লড়াই চলছে। যে লড়াইয়ের মধ্যে অন্যতম একটি লড়াই হলো গণতান্ত্রিক লড়াই। আপনারা দেখেছেন যে ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের জন্য আমরা আজীবন যুদ্ধ করেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের লড়াইটা থাকবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি বাংলাদেশের সব ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছে। যদি কেউ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার প্রচেষ্টা চালায়, ইনশাআল্লাহ রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকবো তাদের প্রতিরোধ করার জন্য।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নাগরিকদের দলে যোগদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার জ্বালানি সংকট থেকে শুরু করে অনেকগুলো বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে। আমরা সরকারকে অনুরোধ জানাবো, দেশের প্রয়োজনে যে কোনো কাজে বাংলাদেশের মানুষকে আমরা সার্ভ করতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু সরকারকে খোলাসা করে বলতে হবে কেন লোডশেডিং হচ্ছে। সরকার বলছে যে জ্বালানি আছে, কিন্তু আমরা পেট্রোল পাম্পে গিয়ে জ্বালানি পাচ্ছি না। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? যদি সরকার মনে করে যে এখানে সিন্ডিকেট আছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তাহলে সরকার যদি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে আহ্বান জানাক, তাহলে আমরা গিয়ে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করবো।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি যে সরকার জনগণের সামনে এ বিষয়গুলো খোলাসা করবে। যাতে জনগণ দেশের এই ক্রান্তিকাল, এটা শুধু বাংলাদেশ না বৈশ্বিক ব্যবস্থা একটি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যে ইমারজেন্সি ক্রাইসিসগুলো, জ্বালানি সংকট রয়েছে- আশা করি ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে পারবো।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, বিভিন্ন জায়গায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা আমাদের ফোন দিচ্ছে যে লোডশেডিংয়ের কারণে তারা পড়াশোনা করতে পারছে না। তাদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে এবং মার্কেটগুলোতে দেখেছি যে আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিম্নমুখী হচ্ছে। জনগণের নাভিশ্বাস উঠছে। দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। সেই জায়গায় আমরা এটাও চুপিসারে শুনতে পাচ্ছি- সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা তো দূরের কথা, সেখানে শুনলাম বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গোপনে সরকার নোট ছাপাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার যদি দেশের সংকটগুলো নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলোকে নিশ্চিত করতে না পারে- তাহলে অবশ্যই সরকারকে জবাবদিহির জায়গায় অবশ্যই আসতে হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলবো আপনারা মুখ খোলা শুরু করুন। আমরা আপনার কাছে জবাবদিহি চাই। আপনি যে কাজটি করেছেন অ্যাকশনের আমরা রেজাল্ট দেখতে চাই। আপনি বলেছেন সোশ্যাল সেফটির আওতায় বাংলাদেশের অনেকগুলো মানুষকে বিভিন্ন খাতে কার্ড দেওয়া হবে। আমরা এটাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। কিন্তু যে টাকাগুলা আপনি ব্যয় করবেন সেটা বাজেটের কত পারসেন্ট ব্যয় করছেন, সে টাকাগুলো কোথা থেকে আনবেন সেটাও জনগণের জানার অধিকার আছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, পার্লামেন্টে সরকারি দল, বিরোধীদল আজ যে আলোচনাগুলো চলছে, করছে এগুলো দেখে আমরা হতাশ। জনগণ আইন প্রণয়ন করার জন্য আপনাদের পাঠিয়েছে। যারা শহীদ হলো, জুলাইয়ে আহত হলো- সে মানুষগুলোর একটি বড় দাবি ছিল যে বাংলাদেশে আমাদের হসপিটালগুলোতে অ্যাক্সেস থাকবে, এডুকেশন অ্যাক্সেস থাকবে। নতুন নতুন আইন তৈরি হবে। যে আইন তৈরির মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে পাবো।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি বাংলাদেশে খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন এবং সে লড়াইয়ের জন্য উনি জীবন পর্যন্ত দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু আমরা এখন যেটা দেখছি, খালেদা জিয়ার সন্তান রয়েছেন, খালেদা জিয়ার অনুসারী দাবি করেন, ভুয়া অনুসারী দাবি করে- যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিনষ্ট করার জন্য বাংলাদেশে নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে।