বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, পাঁচ কোটি মানুষ গণভোট দিয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ করে দিয়েছে। এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেই জনরায় উপেক্ষা করা হলে দেশ আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ধাবিত হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের মৌলিক বিষয়ে বিএনপি যে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, গণভোটে দেশের পাঁচ কোটি মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দল হিসেবে বিএনপির উচিত ছিল জনরায় মেনে নেওয়া। কিন্তু তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে এবং বৈঠক এড়িয়ে গিয়ে দেশে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এই সংকট নিরসনের চাবিকাঠি এখন বিএনপির হাতেই। সংকট বিএনপি তৈরি করেছে, সমাধানও তাদের করতে হবে।
সরকারের সাম্প্রতিক ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, ‘সরকারের বয়স মাত্র এক মাস পার হলো। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলীয় নেতারা রাজপথের আন্দোলন দমনের হুমকি দিচ্ছেন। এটি আওয়ামী লীগের ভাষা, ফ্যাসিবাদের ভাষা। আপনারা যদি জনগণের অভিপ্রায় উপেক্ষা করেন, তবে আমাদের সামনে রাজপথ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।’
‘প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম। কিন্তু বিএনপি সেখানে ভিন্নমত দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসন ও দুর্নীতির পথ সুগম করতে চায়,’ যোগ করেন তিনি।
জ্বালানি-সংকট ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি-সংকটে পেট্রোল পাম্পে মাইলের পর মাইল লাইন লেগে আছে। অথচ সংসদে মন্ত্রীরা বলছেন কোনো সংকট নেই। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। কৃষিতে সেচ-সংকট তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্যের দামে। সরকার জনগণের ভাগ্য বদলের চেয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে বেশি ব্যস্ত।
ভোলায় জামাতের নারী নেত্রীকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে প্রতিবন্ধী সন্তানকে রেখে একজন নারীকে হাতকড়া পরানো চরম অমানবিক। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সার্জিস আলমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।