মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন
জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর কালো কালিতে লেখা হলেও এর পটভূমি রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, যে তরুণ পথে নেমে এসেছে, যে যুবক কাজ ফেলে রাজপথে নেমেছে, যে বাবা ছেলেকে মিছিলে পাঠিয়ে প্রার্থনায় বসেছে, যে শ্রমিক প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে, তাদের সবার কাছে আমাদের অনেক ঋণ। আর সে ঋণ-ই ‘জুলাই সনদ’। এর প্রতিটি অক্ষর কালো কালিতে লেখা হলেও এর পটভূমি রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর-ই জুলাই সনদ।
তিনি বলেন, আর কোনো স্বৈরাচার যাতে জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে, জনগণের অধিকার পদদলিত করতে না পারে, কাউকে গুম করতে না পারে, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে সে জন্য ‘জুলাই সনদের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, দীর্ঘ ষোলো বছর যারা ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনের নিগড় থেকে মুক্ত স্বদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে জীবন বিনিময় করেছেন, গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, গ্রেপ্তার-নির্যাতন ভোগ করেছেন, তারা আমাদের কয়েকটি দায়িত্ব সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে আসতে না পারে, সেই পথ রুদ্ধ করা। আরেকটি দায়িত্ব হচ্ছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণ। দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে। আগামী অন্তত ৪০ বছর আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি কোন পথে যাবে, আমার ও আপনার দায়িত্ব হচ্ছে সে পথ নির্ধারণ করা।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি—অগণিত শহীদের আত্মাহুতি বৃথা যাবে না, এ দেশের জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে কথা বলবে এবং সাফল্য ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করার জন্য জাতীয় সংসদের একটি কমিটি করা হয়েছিল। তাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দলের সদস্যরা ছিল না। সেই কমিটি ২৫ টি বৈঠক, ১০৪ জন ব্যক্তির মতামত নিয়ে বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে। তবে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে। যেমন ৯০ দিনের বেশি এটা থাকতে পারবে না। বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। একটা বৈঠকে সেটা পরিবর্তিত হয়েছে। সেই বৈঠকটা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে পঞ্চদশ সংশোধনী তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে এক ব্যক্তির ইচ্ছায়। সংবিধান সংশোধনী আর যাতে ছেলেখেলায় পরিণত না হয় সেটা বন্ধ করা সময়ের দাবি।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এ তিনটি তামাশার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, ২০১২ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের নামে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ‘সার্চ কমিটি’ নামে একটি ‘নাটক’ মঞ্চস্থ করেছিল। বলা হয়েছিল, ‘সার্চ কমিটি’র সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন। কিন্তু জানা গেছে ‘সার্চ কমিটি’র সুপারিশে ‘কাজী রকিব উদ্দিন’ নামক কোনো ব্যক্তির নাম ছিলো না।
এক ব্যক্তির ইচ্ছাতেই এটি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল।