বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
নিজস্ব প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে আলিম পরীক্ষার্থীর মৃত্যু সিরাজগঞ্জে আমির হামজা এমপির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা সংরক্ষিত নারী আসনে ৫৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র পেয়েছে ইসি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, অংশ নিচ্ছে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী সরকারের সঙ্গে কি এস আলম গ্রুপের সমঝোতা হয়েছে: অর্থমন্ত্রীকে হাসনাত সরকার ৫২ দিনে ৪৪ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়েছে: সংসদে রুমিন ফারহানা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াবের বৈঠক

গানম্যান পেলেন নাহিদ-হাসনাত-সারজিস-জারা

জুলাই যোদ্ধা, সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসাবে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সম্মুখসারির কয়েকজনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।

এই তালিকায় রয়েছেন- অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। ফ্যাসিস্টরা নির্বাচন বানচালে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক প্রতিবেদনে তথ্য তুলে ধরে সরকারকে অবহিত করা হয়েছে।

জুলাই যোদ্ধারা শেখ হাসিনার পতনের দিন গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকেই নানা ধরনের হুমকির মুখে আছেন। দেশে আত্মগোপনে থাকা বা বিদেশে পলাতক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ তাদের দোসররা জুলাই যোদ্ধাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের লোকজনকে উসকে দিচ্ছেন।

জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে হত্যা করা হবে বলে গত কয়েক মাস ধরে বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে ১২ ডিসেম্বর হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। দেশে-বিদেশে উন্নত চিকিৎসা দিয়েও হাদিকে বাঁচানো যায়নি।

হাদির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সরকারের এই উপলব্ধি এসেছে যে, জুলাই যোদ্ধাদের যতটুকু সম্ভব নিরাপত্তা দিতে হবে। হাদির মতোই জীবন ঝুঁকির তালিকায় আছেন এবি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ, জুলাই যোদ্ধা ও সমন্বয়ক এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহসহ সম্মুখসারির অনেক যোদ্ধা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত রাজনীতিকরা। তাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের গোয়েন্দা তথ্যেও রয়েছে।

বেশ কয়েকজন রাজনীতিক ও সংসদ-সদস্য প্রার্থী গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রধান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছ থেকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান পাচ্ছেন।

আবেদনের ভিত্তিতে কয়েকজন রাজনীতিককে গানম্যানসহ অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে শিগগিরই। এদের মধ্যে রয়েছেন- গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে বিএনপি মনোনীত সংসদ-সদস্য প্রার্থী তানভির আহমেদ রবিন, পাবনা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাফির তুহিন, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ আরও বেশ কয়েকজন।

এছাড়া ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার থাকা শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ নিরাপত্তা। হাদির এক বোন পাচ্ছেন লাইসেন্স এবং গানম্যান। অন্য সদস্যদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা গেছে, জুলাই গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী সারাদেশের অসংখ্য যোদ্ধা তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স দাবি করেছেন। তবে গুরুত্ব বুঝে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হলেও তাদের সবাইকে গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো ফোর্স পুলিশ বাহিনীতে নেই। আবার যারা গানম্যান দাবি করছেন, তাদের অনেকেই শিক্ষার্থী। ব্যক্তিগত যানবাহন নেই তাদের। বেশিরভাগই রিকশা বা পাবলিক বাসে যাতায়াত করেন। এ কারণে তাদের গানম্যান দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে সরকার তাদের বিষয়টি সহনশীলভাবে বিবেচনায় নিয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের পাশাপাশি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি ও সমমনা দলগুলোর সম্ভাব্য এমন প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়েও ভাবছে সরকার। এরইমধ্যে কয়েকজনের আবেদন গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। গোয়েন্দারা যাদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসাবে চিহ্নিত করেছেন এবং যাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন, তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা বিশ্লেষণ করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ চলছে। যারা নিরাপত্তা চাচ্ছেন তাদের সবাই গানম্যান দাবি করেন। গানম্যানের পাশাপাশি অস্ত্রও চেয়েছেন কেউ কেউ। অস্ত্রের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসকের ওপর নির্ভর করছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পক্ষ থেকেও গানম্যান দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, গানম্যান চাওয়া হয়েছে অনেকের জন্য। এত গানম্যান সরবরাহ করা পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনেক জুলাই যোদ্ধা এবং সংসদ-সদস্য প্রার্থীরা মৌখিকভাবে নিরাপত্তা চাচ্ছেন। কিন্তু এভাবে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। লিখিতভাবে যারা আবেদন করছেন তাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। গতকাল রোববার পর্যন্ত লিখিতভাবে ১২ জনের আবেদন জমা পড়েছে। এ বিষয়ে দু-এক দিনের মধ্যেই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জুলাই যোদ্ধারা নিজেদের নিরাপত্তা চাইলেও এখনো কেউ আগ্নেয়াস্ত্র চাননি। তবে বেশ কয়েকজন সংসদ-সদস্য প্রার্থী অস্ত্রের পাশাপাশি গানম্যান চেয়েছেন।

সূত্র নিশ্চিত করেছে, অফিশিয়ালি এখনো কাউকে গানম্যান দেওয়া হয়নি। তবে ডিএমপি এবং এসবির পক্ষ থেকে যাদের গানম্যান দেওয়া হয়েছে সেগুলো আনঅফিশিয়ালি এবং অস্থায়ীভাবে। তাদের আবেদন মন্ত্রণালয় পেলে তাদের স্থায়ী নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, যারা ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের এরইমধ্যে একজন করে গানম্যান দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের যে ডিজিএফআই, এনএসআই, এসবি আছে; তারা নিজেরা বসে কারা কারা ঝুঁকির মধ্যে আছে- এরকম একটা লিস্ট করেছে। তাদের অনেককেই গানম্যান দেওয়া হয়েছে, আবার অনেকে গানম্যান চাননি।

যাদের গানম্যান দেওয়া হয়েছে, তারা কি সবাই রাজনীতিক- এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, যখন তাদের সঙ্গে (গানম্যান) ঘুরবে, তখন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করে বের করে নিয়েন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025