শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
২ নৌকাসহ ৭ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি কাগজপত্র না পেয়ে সংসদে দুই বিল স্থগিতের দাবি বিরোধী নেতার সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জনের গেজেট প্রকাশ গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা-গুমে ১,৮৫৫ মামলা: আইনমন্ত্রী দেশের ৪ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস, এক জেলায় পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কায় সবকিছুতে আপস করেছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জামায়াত আমিরকে নিয়ে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ নয়াপল্টনে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে লাখো মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে সমাবেশ করবে জামায়াতসহ ১১ দল আজহারী-আহমাদুল্লাহর নামে বিজ্ঞাপন দিয়ে ওষুধ বিক্রি, বিচার দাবি সংসদে

অধ্যাপক গোলাম আযম বাংলাদেশের মুকুটহীন রাজা

বাবার জন্মদিনে উনার প্রতি উৎসর্গ

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী

অধ্যাপক গোলাম আযম বাংলাদেশের মুকুটহীন রাজা

আজ বাবার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৪ সালের ২৩ শে অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯২ বছর বয়সে তিনি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ২৫শে অক্টোবর ২০১৪ তারিখে বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমে উনার নামাজে জানাজার শেষে মগবাজার কাজী অফিস লেনে পারিবারিক কবরস্থানে উনাকে দাফন করা হয়। অধ্যাপক গোলাম আযম এর জানাজা এদেশের ইতিহাসে তো বটেই, এমনকি পৃথিবীর ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জানাজা বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। সমগ্র বিশ্বে প্রায় চার হাজার গায়েবানা জানাজা হয়েছে। কেবলমাত্র কাবা শরীফেই শতাধিক জানাজা হয়েছে। দেশের সর্বস্তরের আপামর জনতা বায়তুল মোকাররমের জানাজায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে ষড়যন্ত্রকারী ও কুচক্রীদের যুগ যুগ ধরে উনার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন। আমি আমার ও আমার পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

এদেশের জনগণ কুচক্রীদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, উনারা ষড়যন্ত্রকারীদের মিথ্যা প্রচারণায় বিশ্বাস করেননি। মগবাজারের বাড়ি থেকে বাইতুল মোকাররম মসজিদ পর্যন্ত উনার লাশ নিয়ে যে বর্ণাঢ্য র্যালি হয়েছে তার দ্বারা এ দেশের মানুষ উনাকে এদেশের মুকুটহীন রাজা বানিয়ে দিয়েছেন। তাই, নির্দ্বিধায় অধ্যাপক গোলাম আযমকে “বাংলাদেশের মুকুটহীন রাজা” উপাধি দেয়া যেতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, অধ্যাপক গোলাম আযম একজন নির্লোভ, নির্মোহ, জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ খাঁটি দেশপ্রেমিক নেতা ছিলেন। ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯১ এবং ২০০১ এ, মোট চারবার উনার মন্ত্রিত্ব গ্রহণের সুযোগ থাকলেও তিনি মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেননি। তিনি জনগণের নেতা, জনতার পাশে থেকে জনগণের জন্য কাজ করে গেছেন। ক্ষমতার অংশীদার হয়ে ভোগবিলাস এর মধ্যে জীবনযাপন উনার জীবনে উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি কখনোই ক্ষমতার লোভী ছিলেন না। এ প্রসঙ্গে আমি উনার একটি উদ্ধৃতি জাতির সামনে পেশ করতে চাই। তিনি বলেছিলেন, “জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতা আসুক আর না আসুক, দীন প্রতিষ্ঠা করতে পারুক আর না পারুক, তাতে আমার ব্যক্তিগত সাফল্য আটকে থাকে না। আমার ব্যক্তিগত সফলতা হলো, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইকামতে দীনের কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পেরেছে কিনা”। উনার এই বক্তব্য দ্বারা উনার জীবন দর্শন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে এবং তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষেই কাজ করে গেছেন ।

আমরা এক অভাগা জাতি। উনার মত সৎ, যোগ্য, মেধাবী ও দূরদর্শী একজন রাজনীতিবিদের খেদমত পাওয়া থেকে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বিগত ৫৪ বছর সব অযোগ্য ও অদক্ষ ব্যক্তিরা দেশ পরিচালনার নামে জনগণের সম্পদ লুটপাট করে খেয়েছে। আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন আমরা সবাই মিলে আগামী নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য লোকদের নির্বাচিত করে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করি। আমি আশাবাদী, দেশবাসী ভবিষ্যতে অযোগ্য, অদক্ষ, দুর্নীতিপরায়ণ লুটেরাদেরকে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করবেন না। আমি এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025