বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
২ নৌকাসহ ৭ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি কাগজপত্র না পেয়ে সংসদে দুই বিল স্থগিতের দাবি বিরোধী নেতার সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জনের গেজেট প্রকাশ গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা-গুমে ১,৮৫৫ মামলা: আইনমন্ত্রী দেশের ৪ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস, এক জেলায় পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কায় সবকিছুতে আপস করেছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জামায়াত আমিরকে নিয়ে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ নয়াপল্টনে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে লাখো মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে সমাবেশ করবে জামায়াতসহ ১১ দল আজহারী-আহমাদুল্লাহর নামে বিজ্ঞাপন দিয়ে ওষুধ বিক্রি, বিচার দাবি সংসদে

সংসদে জামায়াত আমিরকে নিয়ে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ

গত মঙ্গলবার সংসদে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংগঠনটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের আরও ৭০ জন সদস্য সই করেছেন।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে, এমনকি সংসদেও বক্তব্যে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা জেনারেল জিয়াউর রহমানের আহ্বানে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। স্বাধীনতার পর বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ সরকারের অধীনে ছিলেন এবং এখন পর্যন্ত সরকারের অধীনেই আছেন। তারা সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের টাকায় ভাতাপ্রাপ্ত হয়ে আসছেন।

তারা বলেন, দেশ স্বাধীনের পর আওয়ামী লীগ সরকারে থাকায় আওয়ামী লীগ মতাদর্শের বীর মুক্তিযোদ্ধারা দলটিতে যোগদান করেন। পরে কেউ জাসদে, কেউ জাতীয় পার্টিতে এবং বিএনপি গঠন হলে অনেকে দলটিতে যোগ দেন। এছাড়াও কেউ কেউ আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা দলে যোগ দেন। এমনকি ১৯৭৯ সালে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করার পর অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তেমনই ফজলুর রহমান নিজের অতীত আওয়ামী নীতি বিসর্জন দিয়ে অনেক দল বদলের পর বিএনপিতে যোগ দেন। কিশোরগঞ্জের কোম্পানি কমান্ডার আইয়ুব বিন হায়দারের ভাষ্যমতে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ট্রেনিং গ্রহণের পর কোনো অস্ত্রই হাতে নেননি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি কোনো কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন না।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করেন, তারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে আলাদা শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং জামায়াতে ইসলামী সেই শক্তিকে সমর্থন দেয়। সুতরাং, ‘মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না, কোনো শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না- করলে এটা ডাবল অপরাধ।’ ফজলুর রহমানের এহেন বক্তব্য মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি।

মোসলেম উদ্দিন ও মো. তাজিরুল ইসলাম বলেন, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমরা তার দেওয়া এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। স্বাধীন নাগরিক হিসেবে যে কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের যে কোনো রাজনৈতিক দল ও মতের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন, যা নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার বলে মনে করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ।

তারা আরও বলেন, সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনার জন্য মহান জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কথা। ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগ করার জায়গা জাতীয় সংসদ নয়। সরকারদলীয় এমপি ফজলুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে সংসদে যেসসব হিংসাত্মক এবং আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগ করেছেন, তা নিন্দনীয়। আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধারা তার ওই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

‘আসুন, আমরা বিভাজনের রাজনীতির মানসিকতা পরিহার করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে চব্বিশের জুলাই সনদের নীতির আলোকে সংবিধান সংস্কার করে সবাই মিলে দেশটাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিনির্মাণের চেষ্টা করি। তা না হলে দেশটা পুনরায় ফ্যাসিস্ট এবং স্বৈরাচারী শাসনের দিকে এগিয়ে যাবে, যা কারও জন্য মঙ্গলজনক হবে না।’ বিবৃতিতে বলেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025