বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বলপ্রয়োগ ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, ভোট দেওয়ার আগেই ভোট হয়ে গেছে বলে আমরা এখন পর্যন্ত তথ্য পেয়েছি। ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনি এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা এবং নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র না থাকার মতো ঘটনাও ঘটেছে।’
তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় গভীর উদ্বিগ্ন আমরা। এজন্য নির্বাচন কমিশন, ঠাকুরগাঁওয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অবশিষ্ট সময়ের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘শীর্ষ পদ থেকে এ উপ-নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করা হলেও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ ধরনের বক্তব্য জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নয় দফা লিখিত অভিযোগ ও তিনটি দাবি পেশ করেছিলেন। পরে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনের কাছে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি আমরা। কিন্তু এসব অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার দৃশ্যমান হয়নি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এমনকি একজন নারী ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন, তার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। এ ধরনের ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি উপ-নির্বাচনেই যদি অনিয়মের অভিযোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন কীভাবে নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।