Editor Panel
- ১২ অক্টোবর, ২০২৬ / ২৮ Time View
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদারে আজ রাজপথে নামছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। বিরোধীদলীয় জোটের ডাকা এই বিক্ষোভকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম’ বলে অভিহিত করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।
বিক্ষোভে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। এদিন জোটের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি প্রতিনিধিদলের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করে তার কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়ারও কথা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে তার হস্তক্ষেপও চাইবেন তারা।গতকাল রবিবার দলটির সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা ‘ভোট চুরির’ নানা অভিযোগের প্রতিবাদে কংগ্রেস, ইন্ডিয়া জোটের শরিকদল এবং ভারতজুড়ে তরুণ সমাজ এক হয়ে রাজপথে নামবে।
আন্দোলন দমনে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে ভেনুগোপাল অভিযোগ করেন, বিরোধীদের এই গণজমায়েত বানচাল করতে নানা চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের দিল্লিতে আসায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং যেসব স্থানে প্রবাস ও স্থানীয় কর্মীরা অবস্থান করছেন, সেখানে পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে সরকারের এসব পদক্ষেপ আন্দোলন দমাতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘এসব করা হলেও এই সংগ্রাম ব্যর্থ হবে না। আগামীকাল দিল্লিতে এর চেয়েও শক্তিশালী ও তীব্র সংগ্রাম গড়ে তোলা হবে। বিরোধী দলগুলো আজ ঐক্যবদ্ধ এবং তারা একক শক্তি হিসেবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘
গণতন্ত্রে নাগরিকদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভোটাধিকারকে অন্যতম মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।
একই সাথে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের এজেন্ডা ও নির্দেশ বাস্তবায়নের অভিযোগ তোলেন।ইন্ডিয়া জোটের দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন ও প্রস্তুতি তুলে ধরে ভেনুগোপাল বলেন, ‘ভারতের সব বিরোধী দল ও সর্বস্তরের সংগঠন এক মঞ্চে এসেছে। যে সংগ্রামকে এক বাক্যে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম’ বলা যেতে পারে, আজ তা মাঠে রূপ নিচ্ছে। ‘
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং ‘ভোট চুরির’ অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ভারতের সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই সোচ্চার রয়েছে ইন্ডিয়া জোট। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার এই বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।