শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
গণভোটের রায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা বিএনপির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।
তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও গণরায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এর সমাপনী কর্মসূচি হিসেবে ওইদিন বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে সমাবেশ হবে।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকট, সারের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দলীয়করণের কারণে জনগণ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে, তারও পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।
জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে জামায়াতের এ নেতা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার করতে হবে।
বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট অবিলম্বে নিরসনের দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পর্যাপ্ত ও সুলভ মূল্যে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ ও মাংসসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করে নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করে যোগ্যতা, দক্ষতা ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন। লংমার্চ ও সমাবেশ সফল করতে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমাবেশস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আগত মানুষের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক ও দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের প্রতি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামবাসীসহ সর্বস্তরের জনগণকে ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও লালদিঘী ময়দানের সমাবেশে শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ শাহজাহান। এতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভুঁইয়া, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের চট্টগ্রাম মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।