রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
ভারতের কলকাতায় ‘শিখা ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল দিয়ে দেশে আনা হয়েছে। এরপর মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহগুলো বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ও বিজিবি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহগুলোর মধ্যে আছেন- সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শ্বর্ণশীষ দত্ত (৩), শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০) ও ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু (৩৭)।
এর আগে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের ভোমরা বন্দর দিয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। এবং তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সম্মতিতে সাতক্ষীরার রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতায়ই সৎকার করা হবে।
১৮ আগস্ট রাত ২টার দিকে কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইননামে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন, সাতক্ষীরার দুজন এবং ঢাকা সাভারের একজন রয়েছে।
কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার দিলীপ দত্তের ছেলে দেবাশীষ দত্ত। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। এর মধ্যে মেয়ে মহিমা দত্তকে (৭) রেখে গত ৩ আগস্ট তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান। দুদিন পর স্ত্রী, সন্তান শ্বশুরকে নিয়ে কলকাতায় যান দেবাশীষ। প্রথমে তারা কলকাতায় দুদিন ছিলেন। এরপর স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতে যান। ১৭ আগস্ট রাত ১১টায় চিকিৎসা শেষে উড়োজাহাজে করে কলকাতায় ফিরে আসেন তারা। পরে কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন। পরদিন ১৮ আগস্ট রাত ২টার দিকে ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। এছাড়া তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। চিকিৎসার জন্য ১৯ দিন আগে তারা ভারতের কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। ১৯ আগস্ট তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।
হস্তান্তরের সময় বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ, বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ও আইসিপি বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তারাসহ নিহতের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
দেবাশীষ দত্তের মরদেহ গ্রহণ করতে বেনাপোল চেকপোস্টে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট ভাই সনি এবং স্বজনরা। দেবাশীষের বাবা দীলিপ দত্ত বেনাপোল আসেননি। তিনি বাড়িতে থেকে কবর খননসহ দাফনের আনুষঙ্গিক কাজ তদারকি করছেন।
অন্যদিকে ঢাকা সাভারের বাবু আহম্মেদের মরদেহ গ্রহণ করতে বেনাপোল চেকপোস্টে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী।
তিনি জানান, শুক্রবার বিকেলে ভাইয়ের মরদেহ নিতে বেনাপোলে আসি। শুক্রবার রাত ৮টার মধ্যে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু ছাড়পত্র জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। শনিবার সন্ধ্যায় আমার ভাইয়ের মরদেহ বুঝে পেয়েছি।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানান, ১৮ আগস্ট রাত ২টায় কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন এবং ঢাকা সাভারের একজন ছিলেন। ওই পাঁচজনের মরদেহ আজ দেশে ফিরেছে এবং মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।