সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব এবং নতজানু নীতির কারণে বিগত সরকার ফারাক্কার ন্যায্য পানি নিশ্চিত করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ৫৭টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা, পরিবেশ, জলবায়ু সহনশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি জড়িত।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, লবণাক্ততা ও পানি সংকট দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তৈরি করছে। নদীর পানির প্রবাহ ও বন্যার পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়, যৌথ গবেষণা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জোরদার করে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, জ্বালানি ও আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যো পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে, সহসাই এর কাজ শুরু হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামত পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। পদ্মা ব্যারাজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং খাল খননের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের স্বনির্ভর বাংলাদেশের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের সদস্যসচিব প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে কি-নোট স্পিকার ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন। অতিথি হিসেবে ছিলেন সাবেক সচিব প্রকৌশলী এএনএইচ আক্তার হোসেন প্রমুখ।