মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ন
আজ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। নববর্ষের আনন্দে ভাসছে সারা দেশ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, পহেলা বৈশাখে বর্ণিল উৎসবে প্রতি বছর দিনটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচিও নেওয়া হয়। তার ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। চিরায়ত সংস্কৃতি ও নিজস্ব ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ‘মঙ্গল’ নাম বজায় রেখেই শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে ‘বর্ষবরণ পর্ষদ’। আজ মঙ্গলবার ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এই উৎসব উদযাপিত হবে।
‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আজ সকাল ৯টায় ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের হবে। এতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। শোভাযাত্রা পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। শুভ নববর্ষ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ আমাদের প্রাণের সর্বজনীন উৎসব। এটি আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ অতিক্রম করে পহেলা বৈশাখ আমাদের সবার জন্য হয়ে ওঠে এক আনন্দ ও মিলনের দিন। আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশাখের আগমনে আমাদের জীবনে জাগে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও অসীম সম্ভাবনার স্বপ্ন। অতীতের গ্লানি, বেদনা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলি নব উদ্যমে ও নব প্রত্যয়ে।’১৯৮৯ সালে শুরুর বছর এর নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। অমঙ্গল দূর করে মঙ্গলের আহ্বানে ১৯৯০ সালে এর নাম রাখা হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। এই নামেই এটি দীর্ঘ সময় বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলন পরবর্তী প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর নাম পরিবর্তন করে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করে। এক বছরের মাথায় সরকার বর্তমান বছরে এর নতুন নাম নির্ধারণ করেছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো এই আয়োজনকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ (অপরিমেয় বিশ্ব সংস্কৃতি) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।