শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন

সদরঘাটে দুর্ঘটনা ,দুই লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শনে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ‘এমভি আশা-যাওয়া-৫’ ও ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ নামের দুটি লঞ্চের রুট পারমিট ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিগুলোকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তদন্তে যারা দায়ী প্রমাণিত হবেন তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌপথে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, দোষীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অবহেলা করার সাহস না পায়।

দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাজিব আহসান জানান, দুর্ঘটনায় আহত অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। তবে ওই নারীর হাত ও পায়ে আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

নিখোঁজ ব্যক্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা কাজ করছেন। তবে রাতে নদীতে লঞ্চ চলাচল বেশি থাকায় উদ্ধার তৎপরতা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে পুরোদমে আবার অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হবে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এবং গার্মেন্টস খাতের ছুটি শুরু হওয়ায় নৌপথে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। এই বাড়তি চাপের মধ্যেও যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এর আগে, বুধবার বিকেলে সদরঘাটের একটি পন্টুনে ‘এমভি আশা-যাওয়া-৫’ লঞ্চে যাত্রী ওঠানোর সময় ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চটি ধাক্কা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মো. সোহেল (২২) নামের এক যুবক নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা নদীতে অনুসন্ধান চালালেও রাত হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে আবার অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025