রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
গোলাম আযমের স্বীকৃতি জাতি আজও দিতে পারেনি: জামায়াত নেতা আযাদ যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় সেনাসদস্য নিহত তাকওয়া প্রশিক্ষণের কর্মশালা রমজান: ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে পদক প্রদান ও বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী আজিমপুরে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাকে মায়ের ভাষা বলতে হলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী চাঁদাবাজি নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জামায়াতের ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে সরকার ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন জামায়াত আমিরসহ বিরোধীদলীয় নেতারা মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

গোলাম আযমের স্বীকৃতি জাতি আজও দিতে পারেনি: জামায়াত নেতা আযাদ

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ৫২’ র ভাষা আন্দোলনের হরতালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে যারা সেদিন পিকেটিং করেছিলেন, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন—তাদের মধ্যে একজন ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো এই স্বীকৃতিটা জাতি আজও দিতে পারেনি। উনি (গোলাম আযম) অনুশোচনা করেছিলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত হয়েছে।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আর আই চৌধুরীকে উদ্ধৃতি দিয়ে এসব কথা বলেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আর আই চৌধুরী বলেছেন, ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলনের হরতালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে যারা সেদিন পিকেটিং করেছিলেন, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন, আমি দেখেছি পুলিশের ভ্যানে কারা কারা ছিলেন, তার মধ্যে একজন নেতা ছিলেন, যার নাম অধ্যাপক গোলাম আযম।’ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো—এই স্বীকৃতিটা এই জাতি আজও দিতে পারেনি। উনি অনুশোচনা করেছিলেন ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত হয়েছে।”

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, সাতটি দশক অতিক্রান্ত হয়েছে, আজও প্রশ্ন ওঠে ভাষা সৈনিকের তালিকা নিয়ে। যেমনটি মুক্তিযোদ্ধার তালিকা নিয়ে বিতর্ক, ভাষাসৈনিকের তালিকা নিয়ে একই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়—এটি খুবই দুঃখজনক। এটির মূল কারণ হচ্ছে—প্রকৃত যারা ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন তাদের অনেককে রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং মানসিক সংকীর্ণতার কারণে মর্যাদার স্বীকৃতি দিতে পারিনি।

তিনি বলেন, ৩৬ দিনের মধ্যে একটি ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। এখানেও কিন্তু যেই চেতনা নিয়ে আমরা বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সে প্রতিশ্রুতি থেকে জাতিকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গণতন্ত্রকে সুসংহত করাই হবে আমাদের প্রতিশ্রুতি। আমি বলতে চাই—জুলাই চেতনা, জুলাই সংস্কারকে মাইনাস করে গণতন্ত্র সুসংহত হবে না, স্বৈরতন্ত্র আবার ফিরে আসবে। উনারা গণতন্ত্র সুসংহত নয়, স্বৈরতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছেন।

তিনি বলেন, মেহেরবানি করে আমরা আহ্বানও জানাই—আপনাদের মধ্যে শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। আমরা রাজপথ বেছে নিতে চাই না। আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ফয়সালা করতে চাই। তবে আপনারা বাধ্য করবেন না রাজপথে ঠেলে দিতে।

মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে আযাদ বলেন, আপনি বলছেন, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশই হবে ২১-এর চেতনা। আপনি জুলাই বিপ্লব বাদ দিয়ে, ডিনাই করে, সংবিধান সংস্কারের শপথ উপেক্ষা করে, আপনি সংস্কার না করে কীভাবে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ করবেন? জুলাই বিপ্লবই তো হয়েছিল বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের জন্য। মূল চেতনা তো এটাই—ইনসাফের বাংলাদেশ, মানবিক নিরাপদ বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আল্লাহর ওয়াস্তে আর রক্ত ঝরাইয়েন না। গণতন্ত্রের জন্য রক্তক্ষরণ, জীবন দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস পার হয়েছে। এবার আমরা দেশটাকে গড়তে চাই। বাংলাদেশের মানুষ সেই গণতন্ত্র আর দেখতে চায় না, যে গণতন্ত্র রক্তপাত ঘটায়, আমার অধিকার কেড়ে নেয়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025