সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
উপর দিকে চেয়ে থুতু দিচ্ছেন, অপেক্ষা করেন তা ঘুরে নিজেদের গায়েই পড়বে:শিশির মনির বর্তমান সরকারকে শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে: মামুনুল হক পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী বাংলা নববর্ষে বিরোধীদলীয় নেতার শুভেচ্ছা বিএনপি কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে: নাহিদ ইসলাম জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না: জামায়াত আমির লুটপাটে আ.লীগ সময় নিয়েছিল, কিন্তু বিএনপি নিচ্ছে না: শিবির সভাপতি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জেলায় জেলায় ১১ দলের বিক্ষোভ ইরানের অবশিষ্ট সব শেষ করে দেয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের সহযোগিতা চাইলো বাংলাদেশ

১৮ দিনে ৪৬ উপজেলায় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হেনস্তা, হুমকি ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি শুরু হয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার। এরপর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের অন্তত ৪৬টি উপজেলায় জামায়াতের নারী কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্র দিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে এক বার্তায় জানানো হয়, দলটির নারী কর্মীরা ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন। জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি থেকে শুরু করে চড়-থাপ্পড়, গালিগালাজ, কান ছিঁড়ে দেওয়া, গায়ের কাপড় ও হিজাব খুলে নেওয়া, ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে নির্বাচনের প্রচারে যাওয়ায় নারী কর্মীদের উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রকাশ্যে যৌন হুমকি দেওয়াসহ নিয়মিত সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

৮ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াতে ইসলামীর চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন সেক্রেটারি আমিরুল ইসলামকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেসময় তার স্ত্রী ইউনিয়ন জামায়াতের মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল, তার ওপরও পাশবিক আক্রমণ চালানো হয়। সন্ত্রাসীরা ওই গর্ভবতীর পেটে লাথি মেরে তাকে গুরুতর জখম করে। পরে তাকেসহ আহত জামায়াত কর্মীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টার দিকে যশোরের চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তারপুর গ্রামের নারীদের কাছে প্রচারে যান জামায়াতের নারী কর্মীরা। সেসময় স্থানীয় আইতাল হোসেন ও বাদলের বাড়ির সামনে হামলা চালিয়ে জামায়াতের নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করে মোবাইল, খাতা এবং কাগজপত্র কেড়ে নেন।

অন্যদিকে চৌগাছায় উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডের মাঠচাকলা গ্রামের নারীদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে পুরাতন মসজিদ সংলগ্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করে মোবাইল ও কাগজপত্র কেড়ে নেন। জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার এসব ঘটনার প্রমাণ পেয়েছেন নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র সিভিল জজ গোলাম রসুল।

৬ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসলামীর জেলা আমির ইসহাক খন্দকার জানান, জেলার চাটখিল, বেগমগঞ্জ, সদর উপজেলা, নোয়াখালী পৌরসভা, সুবর্ণচরসহ বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের উঠান বৈঠকসহ প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।

২২ জানুয়ারি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়া এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারের সময় জামায়াতের নারী কর্মীদের পথরোধ করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এসব ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। এতে কয়েকজন নারী কর্মী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

২৬ জানুয়ারি লালমনিরহাট‑১ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় যাওয়া মহিলা জামায়াতের কর্মীদের হিজাব খোলার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে আহত হন জামায়াত নেতা-কর্মীরা।

এছাড়া ২৭ জানুয়ারি নাচনাপাড়া ও পাথরঘাটা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণাকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রচারণার নিয়ম নেই বলে বাধা দেওয়া ও গালিগালাজ এবং ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়।

৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ভোলার দৌলতখান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ চলাকালে নারী কর্মীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, হেনস্তা এবং প্রচার কাজে বাধা দেওয়া হয়।

৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় নির্বাচনি প্রচারণার কাজে কাঁঠালি থেকে বিজয়নগর এলাকায় যাওয়ার সময় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী মনোয়ারা বেগম’র পথ আটকে হেনস্তা করা হয়।

৬ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ভালুকায় জামায়াতের নারী কর্মীদের গায়ে হাত তোলা হয়। একইদিনে কক্সবাজারের রামুর খুনিয়াপালং দারিয়ার দিঘী দক্ষিণ পাড়ায় জামায়াত এর মহিলা সমাবেশে হামলা চালানো হয়।

৫ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর ৬ নম্বর রাজগঞ্জ ইউনিয়ন হালিম কোম্পানির বাড়িতে মহিলা জামায়াত গণসংযোগে গেলে বাধা দেওয়া হয়।

যশোর-৩ আসনের সদর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়। খুলনার খালিশপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণার সময় অতর্কিত হামলার শিকার হন জামায়াতে ইসলামের নারী কর্মীরা।

ঢাকা-১৯ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় গেলে জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তা করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা-৪ আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রচারে গেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসীর দ্বারা হেনস্তার শিকার হন জামায়াতের নারী নেত্রী।

২ ফেব্রুয়ারি মাগুরা–১ আসনে প্রচারে গেলে জামায়াতের মহিলাদের শাড়ি খুলে ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

৭ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচার চালানোর সময়ে নারী কর্মীদের হেনস্তা করা হয়।

৩১ জানুয়ারি ভোলা‑২ আসনের টবগী ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের মহিলা কর্মীরা নির্বাচনি প্রচারণায় গেলে বাধা দেওয়া হয়। এর আগের দিন বিকেলে প্রচারণার সময় যশোর জামায়াতের মহিলা কর্মীদের অশ্রাব্য গালিগালাজের পাশাপাশি নানা হুমকি দেওয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025