সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ন

বিএনপি কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি এখন একটা কৃত্রিম বিরোধ বা সংকট তৈরি করছে— জুলাই সনদ বনাম জুলাই আদেশ। তারা বলছে— জুলাই সনদ তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে, কিন্তু জুলাই আদেশটা অবৈধ, যে আদেশের ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইডিবি) মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোট বাংলাদেশে এবং পৃথিবীর বহু দেশে চর্চিত হয়েছে এবং এই গণভোট ছিল বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী একটি রাজনৈতিক সমঝোতার জায়গায়।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে দুটি প্রশ্ন দেখা গিয়েছিল। বিএনপি তখন গণঅভ্যুত্থানের দুই-তিন দিনের মধ্যেই সমাবেশ করে জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষ থেকে, আমরা যারা গণঅভ্যুত্থানে ছিলাম, আমরা বলেছিলাম জাতীয় নির্বাচন আমরা চাই, তবে গণঅভ্যুত্থান কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার হাত পরিবর্তনের জন্য হয়নি। ফলে রাষ্ট্রসংস্কারের দাবি ছিল এ গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি, যেখানে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ হবে, একটি নতুন বন্দোবস্ত হবে, যেখানে স্বৈরাচার বারবার ফিরে আসবে না। এজন্যই এই সংস্কার এবং রাষ্ট্র মেরামতের দাবি— যার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে বিলোপ করা সম্ভব হবে বলে আমরা একমত হয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের বিলোপ, নতুন সংবিধান। বিএনপি চেয়েছিল নির্বাচন। ফলে একটি সমঝোতায় আসা হলো ঐক্যমত্য কমিশনের মাধ্যমে। সে সমঝোতা হলো— সংস্কার। আমরা নতুন সংবিধান গণপরিষদের দাবি থেকে সংস্কার পরিষদের জায়গায় ঐক্যমত্য হলাম। বিএনপিও নির্বাচনের জায়গা থেকে কিছুটা সরে এসে অনেকগুলো সংস্কারে ঐক্যমত্য হল। সে জায়গা থেকেই গণভোট হয়। কিন্তু গণভোট-পরবর্তী সময়ে আপনারা দেখছেন যে গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বিএনপি এখন একটা কৃত্রিম বিরোধ বা সংকট তৈরি করছে— জুলাই সনদ বনাম জুলাই আদেশ। তারা বলছে— জুলাই সনদ তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে, কিন্তু জুলাই আদেশটা অবৈধ, যে জুলাই আদেশের ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে তারা একটা বিরোধিতা তৈরি করছে, কারণ জুলাই সনদকে তারা নিজেদের দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, এ সংকট তৈরি হয়েছিল বলেই তখন গণভোটের প্রস্তাব এসেছিল এবং গণভোটের মাধ্যমে এটাও বলা হয়েছিল যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ করা হবে। কারণ এই মৌলিক সংস্কারগুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে কোনো মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। সেটার জন্য একটি গাঠনিক ক্ষমতা এই সংসদকে দিতে হবে, যার নাম হবে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি এটাই হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি সংসদে তারা নতুন করে একটি মুলতবি প্রস্তাব এনেছিল, যেখানে তারা বলার চেষ্টা করেছে— জুলাই সনদ কোন পথে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ কোন পথে বাস্তবায়ন সম্ভব, সেটা ঐক্যমত্য কমিশনেই ঠিক হয়েছিল। ফলে প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) এবং তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ঐক্যমত্য কমিশনে সেই সময়ে যারা ছিলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (সালাহউদ্দিন আহমদ)— তারা সবাই কথার বরখেলাপ করেছেন। তারা নিজেদের দলীয় ইশতেহারের বরখেলাপ করেছেন, জুলাই সনদের বরখেলাপ করেছেন এবং গণভোটের গণরায়কে তারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। এটা সবার কাছেই স্পষ্ট হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025