রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম :

চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখানো হবে: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখানো হবে এবং কোনো নতুন ফ্যাসিবাদকে মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের টাউন ফুটবল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ও ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জামায়াতের কেউ আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথানত করে না। নির্বাচনী মাঠে কেউ যদি ফ্যাসিবাদের চেহারা নিয়ে আসে, তাকে লাল কার্ড দেখানো হবে, যেমন ২০২৪ সালে যুব সমাজ ফ্যাসিবাদীদের লাল কার্ড দেখিয়েছিল।

২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন সেই বিপ্লবের একজন নায়ক এবং তিনি কারো কাছে মাথানত না করায় শহীদ হয়েছেন।

তিনি বলেন, যে দেশে শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ আবু সাইদদের জন্ম হয়েছে, সে দেশে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম হতে পারে না।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামী মূল্যবোধের প্রসারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের জয় হয়েছে এবং আগামীর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইসলামের জয় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, তাঁদের কোনো জনপ্রতিনিধির সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে না এবং সবাইকে জনগণের সামনে সম্পদের হিসাব দিতে হবে। এ জন্য তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে সুশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

যুব সমাজকে সংগঠিত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, যুবকদের নৈতিকতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং কেউ বেকার থাকবে না।

রাজনীতির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা নিজেদের বা দলের লোকজনের পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং দেশের দুঃখী ও দরিদ্র মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে এবং তাদের পরিধেয় নিশ্চিত করতেই রাজনীতি করেন।

জনসভাস্থলে প্রবেশে চুয়াডাঙ্গা জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর স্বেচ্ছাসেবকরা প্রবেশের নিয়মিত তদারকি করছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা বাস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে সমাবেশস্থলে আসছেন। নেতাকর্মীরা অনেকে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লাসহ দলীয় মনোগ্রাম সম্বলিত ব্যাচ, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, মাফলার পড়ে এসেছেন।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আয়কর আইনজীবী রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান এবং এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

কার্পাসডাঙ্গা থেকে আসা নুর আলম বিশ্বাস বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করি। যার কারণে অনেক কষ্টে ছিলাম। আজ আমাদের দলীয় প্রধানকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি।

জীবননগর থেকে আসা হাসান বলেন, জামায়াতে আমিরকে চুয়াডাঙ্গা নির্বাচনী জনসভায় আজ কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেলাম। জনসভায় ১ লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়েছে দেখছি। এ জনসভার মধ্য দিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাঠের অনেক কিছু নির্ধারিত হয়ে যাবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই জনসভায় ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও হাজারো সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025