মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ন
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগে নৌকা আর ধানের শীষ ছিল। এবার নৌকা নেই, নৌকার কান্ডারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের ফেলে ভারতে চলে গেছে। দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে, থাকলে অন্তত একটা গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করত।
বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসতে পারে, কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্যের ব্যবস্থা করবে। যুবকদের জন্য টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে এবং নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণসংযোগের অংশ হিসেবে নির্বাচনী পথ সভায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি বিএনপি’র পক্ষ থেকে এসেছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, শহীদ জিয়ার দল, বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমি আপনাদের কাছে খুব একটা অপরিচিত নই, আপনারা আমাকে চিনেন। এখানে সবাই আমার ছাত্র, এজন্য সবাই আমাকে আলমগীর স্যার ডাকে। ওই নামেই পরিচিত এখানকার বাচ্চারা আমাকে স্যার ডাকে। ওই নামেই আমি থাকতে চাই। আপনার কাছে এই ভালোবাসাই চাই। আপনার কাছে আসছি এটাই শেষবার। আমার বয়স হয়েছে, ৭৯ বছর হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ১৫ বছর অনেক কষ্ট করেছি। মিথ্যা কেস দিয়ে আমাদের এখানে সবাই জেলে গেছে। চুরি না ডাকাতি না ভোট দেওয়ার জন্য ওদেরকে জেলে দেবে। আমি ১১৭ টা মামলার আসামি ছিলাম, জেলে গিয়েছি ১১ বার আর ৬ বছর জেল খাটেছি। যারা জেল খাটছে তারা জানে জেল কি জিনিস, এটা সত্য কথা। তারপরও আমরা থেমে থাকিনি, মাথা নিচু করি নাই, মাথা উঁচু করে আছে যে আমরা ন্যায়ের পথে আছি, সত্যের পথে আছি। আমরা চাই দিতে ভোর সোনা দানা গয়না চাই না। ভোটটা আমাদের অধিকার। ভোটটা আমাদেরকে দিতে দেয়নি হাসিনা সরকার। যারা দিতে গিয়েছে, তাদেরকে জেলে দিয়েছে, মারছে, গুলি করছে। তারা এখন ছাত্র আন্দোলনে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে।
তিনি বলেন, এমন নেতা আমরা চাই না, যে বিপদে রেখে চলে যাবে। আমরা দেশ ছেড়ে যাইনি। আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলছেন, অন্য কোন দেশে আমার বাড়ি নেই, বাংলাদেশে আমার বাড়ি, এখানেই আমি। তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বেগম জিয়ার জানাজা পড়ানো হয় মাঠের কোন জায়গায় ফাঁকা ছিল না, গোটা বাংলাদেশের লোক অংশ নিয়েছিল এবং দোয়া করেছিল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুল হামিদ, আবুল কাশেম, গোলাম কিবরিয়াসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।