রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন

ছাত্রদল হারের ভয়ে শাকসু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্তে লিপ্ত:শিবির সভাপতি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন ও হল সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির সভাপতির দাবি, পরাজয়ের ভয়েই ছাত্রদল নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার হীন অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পেশ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী ২০ জানুয়ারি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি ‘শাকসু’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি প্যানেল ও প্রার্থীরা যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক নির্বাচনি আমেজ তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসন যখন নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে; ঠিক তখনই একটি মহল পেশিশক্তির মাধ্যমে এই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পাঁয়তারা করছে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি দেশের ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র সংসদের ইতিবাচক ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা থাকার ফলে ওই ক্যাম্পাসগুলোতে আবাসন সংকট নিরসন, পরিবহন সমস্যার সমাধান, মাদক ও বহিরাগতমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ডাইনিংয়ের খাবারের মানোন্নয়ন এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য হলের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপকভিত্তিক কাজ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তিনি যোগ করেন, এরই ধারাবাহিকতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীরাও তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধিত্ব নির্বাচিত করতে এবং ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। তাদের প্রবল দাবির প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে বাধ্য হয়। কিন্তু ছাত্রদল পরাজয়ের ভয়ে বারবার নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। আপনারা দেখেছেন, এভাবে তারা প্রতিটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের জন্য অপচেষ্টা চালিয়েছে।

শিবির সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, গতকাল থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নির্বাচন বন্ধের দাবিতে ইসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। অন্যদিকে, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গতকাল নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক দাবিকে উপেক্ষা করে নিজেদের সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ ও লেজুড়বৃত্তির উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই তারা এই জনবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এটি শুধু শাবিপ্রবি নয়; বরং সারাদেশের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকারের মূলে কুঠারাঘাতের শামিল। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রতিনিধি আজ নির্বাচন বানচালের জন্য আন্দোলন করছে।

শিবির সভাপতির দাবি, শাকসু নির্বাচন বানচালের এই নীলনকশা নতুন কিছু নয়। নানা নাটকীয়তা ও ৩ দফায় তফসিল পিছিয়ে সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সব পক্ষ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে এখন এক উৎসবমুখর পরিবেশ ও নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে।

নূরুল ইসলাম বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পেশিশক্তির জোরে কিংবা আদালতকে ব্যবহার করে এই নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করা হলে শাবিপ্রবির ৯ হাজার শিক্ষার্থীসহ সচেতন ছাত্রসমাজ তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এরইমধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ষড়যন্ত্রকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি আপনারা লক্ষ করেছেন- ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী স্বয়ং তাদের কেন্দ্রীয় সংগঠনের অগণতান্ত্রিক ও নির্বাচনবিরোধী অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনের পক্ষে নিজের সংহতি প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন বন্ধের দাবি কতটা অযৌক্তিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার পরিপন্থি। আমাদের দাবি স্পষ্ট- শাকসু নির্বাচন নির্ধারিত তারিখেই অর্থাৎ, আগামীকালই সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ, হুমকি কিংবা পেশিশক্তির কাছে নতি স্বীকার করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানো হলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা এবং একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন উপহার দেওয়া।

শিবির সভাপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ‘শাকসু’ নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ছাত্রশিবির কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, এইচআরএম সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ ডা. রেজওয়ানুল হক, কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025