শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

শোক-ক্ষোভে উত্তাল শাহবাগ, ‘হাদি, হাদি’ স্লোগান প্রতিধ্বনিত

জুলাই জজবার প্রাণ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অকুতোভয় বীর শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে স্লোগানে স্লোগান তোলা হয়। চারপাশ থেকে একের পর এক প্রতিবাদী ধ্বনি ভেসে আসে, প্রতিধ্বনিত হয় ‘হাদি, হাদি’। শাহবাগে তখন শোক ও ক্ষোভে এক উত্তাল প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহবাগে অবস্থান করা বিক্ষোভকারীরা আরও জড়ো হতে থাকেন। কণ্ঠস্বর তীব্র হয়, হাত তুলে স্লোগান দেওয়া হয়। কেউ হাত তুলে স্লোগান দিচ্ছেন, কেউ চোখ ভেজা কণ্ঠে দাঁড়িয়ে আছেন— সবার দৃষ্টি একটাই ওসমান হাদির শেষ যাত্রার দিকে।

ওসমান হাদির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর সংবাদে স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শাহবাগ চত্বর। এসময় আন্দোলনকারীরা ‘তুমি কে আমি কে, হাদি, হাদি’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘হাদি ভাই মরলো কেন— ইন্টেরিম জবাব দে, আইজিপি জবাব দে, জাহাঙ্গীর জবাব দে’, ‘গোলামি না, আজাদী—আজাদী, আজাদী’, ‘দিল্লি না, ঢাকা— ঢাকা, ঢাকা’ স্লোগান দিতে থাকেন।

স্লোগানের ফাঁকে ফাঁকে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, হাদির মরদেহ ঢাকায় আসা মানেই নতুন অধ্যায়। বিচার না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না তারা।

শাহবাগে অপেক্ষমাণ আজিমপুর থেকে আসা স্কুলশিক্ষক রহমত আলী বলেন, হাদির মরদেহ এসেছে, এবার জবাব চাই। বিচার না হলে আন্দোলন থামবে না।

জুলাই ভাস্কর্যের পাদদেশে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সদস্যদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) সদস্যরাও রয়েছেন। সবাই এখন এক মঞ্চ থেকে স্লোগান দিচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি— হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025