মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন।
জাদুঘর উদ্বোধন উপলক্ষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।
মন্ত্রী জানান, উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন এবং সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারকগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে জানবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে জুলাই যোদ্ধা এবং জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেবেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন, জুলাই যোদ্ধা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেই সময়ের অনাচার ও অত্যাচারের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি প্রকল্পের জন্য জমি হস্তান্তর করা হয়। এরপর আইন, প্রবিধানমালা ও গেজেট প্রকাশসহ প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লেগেছে। পাশাপাশি অসমাপ্ত কাজগুলোও শেষ করতে হয়েছে।